এক কাপ কফি অনেকের দিনের শুরু বা কাজের ফাঁকে নতুন উদ্যম এনে দেয়। এতে থাকা ক্যাফিন সাময়িকভাবে ক্লান্তি দূর করে মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কফি খাওয়ার অভ্যাস শরীরের কিছু অংশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যার মধ্যে মূত্রাশয়ও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাফিন হালকা ডাইইউরেটিক হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ এটি প্রস্রাবের পরিমাণ ও প্রস্রাবের বেগ বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে দিনের মধ্যে বারবার বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল না খেলে শরীরে জলশূন্যতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
কীভাবে প্রভাব ফেলে অতিরিক্ত কফি?

অতিরিক্ত ক্যাফিন মূত্রাশয়কে উত্তেজিত করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বেশি পরিমাণে কফি খাওয়ার ফলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মূত্রাশয়ের সংবেদনশীলতা বেড়ে যেতে পারে, যার কারণে প্রস্রাবের বেগ হঠাৎ অনুভূত হতে পারে বা প্রস্রাব ধরে রাখতে অসুবিধা দেখা দিতে পারে।
যে লক্ষণগুলি নজরে রাখবেন
*কফি খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া
*অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন অনুভব করা
*রাতে একাধিকবার ঘুম ভেঙে বাথরুমে যেতে হওয়া
*মূত্রাশয়ের আশপাশে অস্বস্তি, জ্বালা বা হালকা ব্যথা অনুভব করা
*প্রস্রাব দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে অসুবিধা হওয়া
শুধু কফিই কি দায়ী?
সব ক্ষেত্রে কফিই একমাত্র কারণ নয়। মূত্রনালীর সংক্রমণ, প্রস্টেটের সমস্যা, অতিসক্রিয় মূত্রাশয় বা পেলভিক ফ্লোরের দুর্বলতার মতো বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কতটা কফি নিরাপদ?
বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণে কফি পান সাধারণত নিরাপদ বলে মনে করা হয়। তবে যাঁদের আগে থেকেই মূত্রাশয়ের সমস্যা রয়েছে বা কফি খেলেই উপসর্গ বাড়ে, তাঁদের ক্যাফিনের পরিমাণ কমানো এবং পর্যাপ্ত জল পান করা উপকারী হতে পারে।
সঠিক পরিমাণে কফি উপভোগ করা যেমন ভালো, তেমনই শরীরের দেওয়া ছোট ছোট সংকেতগুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। সময়মতো সতর্ক হলে অনেক সমস্যাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.