বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে ডিহাইড্রেশন, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু উচ্চ তাপমাত্রাই নয়, বাতাসের আর্দ্রতাও মানুষের শরীরের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সাধারণত ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে। শরীর এই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘামের মাধ্যমে অতিরিক্ত তাপ বের করে দেয়। ঘাম বাষ্পীভূত হলে শরীর ঠান্ডা হয়। কিন্তু যখন বাতাসে আর্দ্রতা অনেক বেশি থাকে, তখন ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ফলে শরীরের স্বাভাবিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়।
বিজ্ঞানীরা মানুষের সহনশীল তাপমাত্রা বোঝাতে “ওয়েট-বাল্ব তাপমাত্রা” নামে একটি ধারণা ব্যবহার করেন। এটি তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার যৌথ প্রভাব নির্দেশ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ওয়েট-বাল্ব তাপমাত্রা মানুষের সহ্যের চূড়ান্ত সীমা হিসেবে বিবেচিত হয়। এই পরিস্থিতিতে শরীর আর নিজেকে পর্যাপ্তভাবে ঠান্ডা রাখতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় এমন পরিবেশে থাকলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়ে যেতে পারে। তখন হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়। হিট স্ট্রোক হলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন কিডনি, লিভার ও হৃদ্যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রক্তচাপ কমে যাওয়া, অক্সিজেনের ঘাটতি এবং অঙ্গ বিকলের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, শুষ্ক গরমের তুলনায় আর্দ্র গরম অনেক বেশি বিপজ্জনক। কারণ শুষ্ক পরিবেশে ঘাম দ্রুত শুকিয়ে শরীরকে ঠান্ডা করে, কিন্তু আর্দ্র পরিবেশে সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এমনকি তরুণ ও সুস্থ ব্যক্তিরাও অতিরিক্ত আর্দ্র তাপমাত্রায় অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হতে পারে। তাই গরমের সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, হালকা পোশাক ব্যবহার এবং শরীর ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য অসতর্কতাও প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.