ভারত থেকে ইরানে হামলার গুজব: মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারের দাবি উড়িয়ে দিল মোদী সরকার

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে একটি চাঞ্চল্যকর দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে বলা হচ্ছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাকি ভারতের কিছু সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে। এই খবর সামনে আসতেই বিভিন্ন মহলে জল্পনা শুরু হয় এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়তে থাকে।

তবে এই দাবি সামনে আসার পরই সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। সরকার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, এ ধরনের খবরের কোনও ভিত্তি নেই। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, ভারতের ভূখণ্ড কোনও তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণের জন্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং এমন কোনও সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি।

বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তাও প্রকাশ করা হয়, যেখানে ‘ফেক নিউজ অ্যালার্ট’ দিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। ওই বার্তায় বলা হয়, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিকর। ফলে এই খবরকে গুরুত্ব না দেওয়ার জন্যও আবেদন জানানো হয়েছে।

কীভাবে শুরু হয় এই গুজব

গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি খবর ঘুরতে শুরু করে। সেখানে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী নাকি ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের কিছু কৌশলগত ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের উপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। সেই সঙ্গে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। যদিও এই দাবি কোনও নির্ভরযোগ্য সূত্র দ্বারা নিশ্চিত করা হয়নি।

এই ধরনের খবর দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের গুজব ছড়ানো অস্বাভাবিক নয়।

ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করল সরকার

এই জল্পনা-কল্পনার মধ্যে সরকার পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি সবসময়ই শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং কূটনৈতিক আলোচনার উপর গুরুত্ব দেয়। ভারতের মাটি ব্যবহার করে অন্য কোনও দেশের উপর হামলা চালানোর প্রশ্নই ওঠে না।

ভারত বহু বছর ধরেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা রয়েছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির সঙ্গেও ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ দীর্ঘদিনের।

কেন ছড়ায় এই ধরনের ভুল তথ্য

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে ভারত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। ফলে অনেক সময় বিভিন্ন গোষ্ঠী বা অজ্ঞাত সূত্র থেকে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে দেশগুলির মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুত প্রসারের কারণে এই ধরনের খবর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। তাই সরকার বারবার সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং যাচাই না করা খবর বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিচ্ছে।

শান্তির পক্ষে ভারতের অবস্থান

ভারত বরাবরই আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছে। বিশ্বমঞ্চে বিভিন্ন সময়ে ভারতের পক্ষ থেকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে যুদ্ধ নয়, শান্তিপূর্ণ সমাধানই হওয়া উচিত। বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই নীতিতেই অটল রয়েছে দেশ।

সব মিলিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া যে খবর নিয়ে এত আলোচনা তৈরি হয়েছিল, তা যে ভিত্তিহীন—সরকারি বক্তব্য থেকেই তা পরিষ্কার হয়ে গেছে। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এল যে, সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক ইস্যুতে যাচাই ছাড়া তথ্য ছড়ালে তা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক