টলিউডে ফের একবার প্রশ্নের মুখে শ্যুটিং সেটের নিরাপত্তা ও শিল্পীদের সুরক্ষা। অভিনেতা জীতু কমল-এর সাম্প্রতিক প্রতিবাদ সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল। প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যুর পর গোটা ইন্ডাস্ট্রি যখন শোকস্তব্ধ, তখনই নিজের অভিজ্ঞতা সামনে এনে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন জীতু।
তালসারিতে একটি ধারাবাহিকের শ্যুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয় রাহুলের। এই ঘটনার পর থেকেই প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে অব্যবস্থা, নিরাপত্তাহীনতা এবং গাফিলতির অভিযোগ উঠতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে শিল্পীমহলে ক্ষোভ বাড়লেও, অভিযোগ ওঠে যে সংশ্লিষ্ট সংগঠন—আর্টিস্ট ফোরাম—প্রথমদিকে যথেষ্ট সক্রিয় হয়নি।
এই আবহেই ফেসবুক লাইভে এসে জীতু জানান, তিনিও একাধিকবার শ্যুটিং চলাকালীন বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রোডাকশনের অব্যবস্থার কারণে তাঁর জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। এমনকি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।
এরপর পরিস্থিতি আরও নাটকীয় মোড় নেয়। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর একটি গাছের তলায় নিঃশব্দে বসে আছেন জীতু। পাশে রাখা তাঁর নিজের এবং রাহুলের সাদা-কালো ছবি—দুটির গলাতেই রজনীগন্ধার মালা। সামনে জ্বলছে মোমবাতি, ছড়ানো স্ক্রিপ্ট। এই প্রতীকী প্রতিবাদ যেন ইন্ডাস্ট্রির উদাসীনতার বিরুদ্ধে এক নীরব কিন্তু তীব্র বার্তা।
জীতুর অভিযোগ, তিনি আগেই আর্টিস্ট ফোরামে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই অভিযোগের পর কোনও প্রতিক্রিয়া তো দূরের কথা, একটি ফোনও পাননি। তাঁর মতে, যদি তখনই বিষয়টি গুরুত্ব পেত, তাহলে হয়তো আজকের এই মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত।
তিনি আরও জানান, মার্চ মাসে চন্দননগরে শ্যুটিংয়ের সময় ভয়াবহ আবহাওয়ার মধ্যেও তাঁকে জোর করে নদীতে নৌকায় শ্যুটিং করতে বলা হয়। তিনি অস্বীকার করলে, পরের দিন তাঁকে গালিগালাজ এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করেন।
এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই জীতুর পাশে দাঁড়িয়ে আর্টিস্ট ফোরামের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, জীবিত শিল্পীদের সমস্যার গুরুত্ব না দিয়ে পরে সহানুভূতি দেখানো অর্থহীন। আবার কেউ সরাসরি অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করার পরামর্শও দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, রাহুলের মৃত্যু এবং জীতুর প্রতিবাদ টলিউডে কাজের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং শিল্পীদের অধিকার নিয়ে বড়সড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার, এই বিতর্কের পর বাস্তবিক কোনও পরিবর্তন আসে কি না।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.