Vastu: প্রদীপের সলতে ও আলোর দিকেই বাস্তুসমতা? শাস্ত্রে কী বলা হয়েছে

সন্ধ্যার প্রদীপ বহু ভারতীয় পরিবারের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে বাঙালি পরিবারে তুলসীতলা, ঠাকুরঘর কিংবা গৃহমন্দিরে প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা বহু প্রাচীন। বাস্তুশাস্ত্রের বিভিন্ন মত অনুসারে, প্রদীপের আলো শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা গৃহের পরিবেশ ও মানসিক আবহের সঙ্গেও প্রতীকীভাবে জড়িত।

বাস্তুবিশ্বাস অনুযায়ী, বাড়ির ঠাকুরঘর ইতিবাচক শক্তির কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই নিয়মিত সেখানে প্রদীপ জ্বালানোকে শুভ মনে করা হয়। অনেকের বিশ্বাস, সঠিক পদ্ধতিতে প্রদীপ জ্বালালে পারিবারিক অশান্তি কমে, মানসিক স্থিরতা বৃদ্ধি পায় এবং গৃহে শুভ শক্তির সঞ্চার ঘটে।

প্রদীপের সলতে নিয়েও রয়েছে নানা প্রচলিত ধারণা। বাস্তুশাস্ত্রের কিছু মত অনুসারে, লম্বা সলতে সমৃদ্ধি, উন্নতি এবং পারিবারিক কল্যাণের প্রতীক। তাই দেবী লক্ষ্মী, সরস্বতী, দুর্গা বা কুলদেবতার পূজায় অনেকেই লম্বা সলতের প্রদীপ ব্যবহার করে থাকেন। অন্যদিকে গোলাকার সলতে মানসিক শান্তি ও একাগ্রতার প্রতীক বলে বিবেচিত হয়। সেই কারণে শিব, বিষ্ণু বা হনুমানের আরাধনায় গোল সলতে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় উল্লেখ পাওয়া যায়।

Vastu: প্রদীপের সলতে ও আলোর দিকেই বাস্তুসমতা? শাস্ত্রে কী বলা হয়েছে
Vastu: প্রদীপের সলতে ও আলোর দিকেই বাস্তুসমতা? শাস্ত্রে কী বলা হয়েছে

শুধু সলতের আকার নয়, প্রদীপের শিখার অভিমুখ নিয়েও রয়েছে বিশেষ বিশ্বাস। প্রচলিত মতে, পূর্বমুখী প্রদীপ সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর প্রতীক। আবার উত্তরমুখী শিখাকে আর্থিক উন্নতি ও শুভ সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। যদিও এসব ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত নয়, তবুও বহু মানুষ আধ্যাত্মিক বিশ্বাস থেকে এই নিয়মগুলি মেনে চলেন।

বাস্তুবিশ্বাসে ঘিয়ের প্রদীপকে বিশেষ শুভ বলে ধরা হয়। অনেক পরিবারে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার ও শনিবার হনুমানজির আরাধনায় চামেলি তেলের প্রদীপ ব্যবহারের কথাও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশীলনে দেখা যায়। বিশ্বাস করা হয়, এতে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব কমে এবং গৃহে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় থাকে।

কিছু প্রাচীন আচার অনুসারে, আর্থিক সচ্ছলতা কামনায় সলতে বা প্রদীপে সুগন্ধি উপাদান, যেমন চন্দন ব্যবহার করার কথাও বলা হয়। এর ফলে ঘরে মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং ধর্মীয় আচার আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তবে মনে রাখা প্রয়োজন, বাস্তুশাস্ত্রের এইসব নিয়ম মূলত বিশ্বাস ও ঐতিহ্যভিত্তিক। এগুলিকে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুশীলনের অংশ হিসেবেই দেখা উচিত। গৃহে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পরিচ্ছন্নতা এবং ইতিবাচক মনোভাবই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক