রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিন যত এগিয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে রাজনৈতিক পালাবদলের সম্ভাবনা। শুরু থেকেই বুথফেরত সমীক্ষায় যে ইঙ্গিত মিলেছিল, বাস্তব গণনাতেও তার প্রতিফলন দেখা যায়। সকাল গড়াতেই বিভিন্ন আসনে বিজেপির এগিয়ে থাকার প্রবণতা বাড়তে থাকে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে।
গণনা কেন্দ্রগুলির সামনে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো হয়ে ওঠে। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে একাধিক কেন্দ্রে তাদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান বাড়তে থাকে, যা কার্যত ফলাফল কোন দিকে যাচ্ছে তা স্পষ্ট করে দেয়।
এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী নিজের জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন এবং জানান, তিনি আগেই জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমদিকে কিছু কেন্দ্রে পিছিয়ে থাকলেও পরে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি দলীয় কর্মীদের মনোবল ধরে রাখার আহ্বান জানান এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন।
*ভবানীপুরে চমক: শুভেন্দুর জয়ে বদলে গেল রাজনৈতিক সমীকরণ
কলকাতার মতো তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতেও এবার চিত্র বদলাতে শুরু করে। বহু পরিচিত মুখ ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়েন, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
*জায়ান্ট কিলার শুভেন্দু! একেবারে ঘরে ঢুকে হারালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, কিছু নেতার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস—এসবই ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। অনেক ভোটার পরিবর্তনের আশায় নতুন দলকে সুযোগ দিতে আগ্রহী হয়েছেন বলেও মত তাঁদের।
সব মিলিয়ে, এই নির্বাচনের ফল রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.