কলকাতার সাংস্কৃতিক মহলে সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন গায়ক ও অভিনেতা শিলাজিৎ মজুমদার। একটি চলচ্চিত্রের প্রচারে গেরুয়া রঙের পোশাক পরে হাজির হওয়ার পর থেকেই নানা রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়। অনেকে প্রশ্ন তুলতে থাকেন, তিনি কি কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের দিকে ঝুঁকছেন? তবে এই বিতর্কে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন শিল্পী নিজেই।
শিলাজিতের বক্তব্য, কোনও রঙের উপর কোনও রাজনৈতিক দলের একচেটিয়া অধিকার থাকতে পারে না। তিনি জানান, ছবির প্রচারের জন্য সম্প্রতি বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরছেন। সেই সময় বহুদিন আগে বিদেশ থেকে আনা একটি কমলা রঙের জুতো তাঁর নজরে আসে। জুতোর সঙ্গে মানানসই পোশাক হিসেবেই তিনি গেরুয়া রঙের ফতুয়া বেছে নিয়েছিলেন। বিষয়টিকে ঘিরে অতিরিক্ত রাজনৈতিক ব্যাখ্যা টানার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিল্পী আরও স্পষ্ট করেন যে, অতীতে তাঁকে কোনও রাজনৈতিক দলের মঞ্চে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি। কোনও রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্যও তিনি কখনও কারও দ্বারস্থ হননি। এমনকি সরকারি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা সঙ্গীত মেলাতেও নিয়মিত অংশগ্রহণ করেননি বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, নিজের স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখতেই তিনি বরাবর সচেতন থেকেছেন।
তবে ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, গ্রামের মানুষের স্বার্থে রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়েছে বলে জানান শিলাজিৎ। বীরভূমের একটি গ্রামে তাঁদের পরিবারের উদ্যোগে তৈরি হওয়া পুরনো স্কুল ও হাসপাতালের উন্নয়নের জন্য বহুবার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আবেদন করেছেন তিনি। শিল্পীর দাবি, তাঁর পূর্বপুরুষরা সরকারি চাকরি ছেড়ে গ্রামের মানুষের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সেই স্কুলের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, এমনকি ভবনের একাংশ ভেঙেও পড়েছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বহুবার যোগাযোগ করেও সরকারি সাহায্য মেলেনি। স্কুলের পরিকাঠামো ভেঙে পড়লেও প্রশাসনের তরফে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। নতুন সরকারের কাছেও তিনি একই আবেদন জানাবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর আশা, প্রান্তিক এলাকার ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে নাগরিক হিসেবে নতুন সরকারের কাছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলেছেন শিলাজিৎ।
প্রথমত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কোনও দুর্বৃত্ত বা অসাধু প্রভাব যেন না থাকে, সেই বিষয়ে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দ্বিতীয়ত, কলকাতা শহরে রাজনৈতিক ব্যানার, পোস্টার ও অতিরিক্ত প্রচারের মাধ্যমে তৈরি হওয়া দৃশ্যদূষণ বন্ধ করার কথা বলেছেন।
তৃতীয়ত, সরকারি স্কুলগুলির শিক্ষার মান উন্নয়নের উপর বিশেষ জোর দেওয়ার আবেদন করেছেন শিল্পী।
চতুর্থত, সমাজের সব স্তরের মহিলারা যাতে সম্মানের সঙ্গে এবং উন্নত পরিষেবা পেয়ে মাতৃত্বকালীন চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, ভাতার চেয়ে স্বাস্থ্য ও মানবিক পরিষেবার উন্নয়ন বেশি জরুরি।

সব মিলিয়ে, গেরুয়া পোশাককে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেও শিলাজিৎ স্পষ্ট করে দিয়েছেন— তাঁর মূল ভাবনা রাজনীতি নয়, সাধারণ মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.