কলকাতার বিনোদন জগতে বহু বছর ধরে পরিচিত মুখ সৌরভ দাস। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে নানা চরিত্রে দেখা গেলেও, কখনও প্রকাশ্যে ইন্ডাস্ট্রি বা রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে মুখ খুলতে দেখা যায়নি তাঁকে। তবে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর একটি দীর্ঘ পোস্ট ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে টলিউডে।
অভিনেতার দাবি, ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ছবিতে কাজ করার পর থেকেই তিনি একাধিক চাপ ও মানসিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। সরাসরি কারও নাম না করলেও, তাঁর পোস্টে স্পষ্ট রাজনৈতিক ইঙ্গিত ছিল বলে মনে করছেন অনেকেই। সৌরভ অভিযোগ করেছেন, তাঁকে বিভিন্ন প্রোজেক্ট থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি ফোন করে তাঁকে কাস্ট না করার কথাও নাকি বলা হতো বিভিন্ন জায়গায়।
অভিনেতার কথায়, অভিনয়ই তাঁর জীবনের একমাত্র ভরসা। পরিবারও তাঁর উপার্জনের উপর নির্ভরশীল। ফলে কাজ হারানোর আশঙ্কা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। তিনি জানান, সেই সময় ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় কাজ করত তাঁর মধ্যে। কোন পথে এগোবেন, কীভাবে সংসার চলবে— সেই চিন্তাই গ্রাস করেছিল তাঁকে।
সৌরভ আরও জানিয়েছেন, ছবিটি ঘিরে বিতর্কের কারণে বাংলায় মুক্তি কার্যত আটকে যায়। ফলে তাঁর অনুরাগীরা সিনেমাটি দেখতে পারেননি। এমনকি নিজের পরিবারকেও অন্য শহরে গিয়ে সিনেমা দেখতে হয়েছিল বলে দাবি করেছেন অভিনেতা। এই পরিস্থিতি তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল।
পোস্টে তিনি স্মৃতিচারণও করেন। মুম্বইয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবিটি দেখার অভিজ্ঞতা, প্রিমিয়ারে উপস্থিত থাকতে না পারার কষ্ট এবং সিনেমা দেখে আবেগে ভেঙে পড়ার কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, প্রথম বলিউড কাজকে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে উদযাপন করতে না পারার আক্ষেপ আজও রয়ে গিয়েছে।
এছাড়াও সৌরভ দাবি করেন, ছবির সম্পূর্ণ চিত্রনাট্য তাঁকে দেওয়া হয়নি। মাত্র কয়েক দিনের অংশ বিশেষ হাতে পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর মতে, পুরো স্ক্রিপ্ট আগে পেলে হয়তো তিনি কাজটি করতেন না বলেই নির্মাতাদের আশঙ্কা ছিল।
সবশেষে অভিনেতা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে যেন বাংলাতেও ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ মুক্তি পায় এবং দর্শকরা ছবিটি দেখার সুযোগ পান। তাঁর পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.