রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে আরও কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এবার থেকে হাওড়া স্টেশনে কোনও অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাকে আদালতে পেশ না করে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
বৃহস্পতিবার হাওড়ায় প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটকে স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে দেশে ঢোকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ধৃতদের প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়ার পর বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিয়ম মেনে তাদের বাংলাদেশ সীমান্তে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
বুধবারই রাজ্যে কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুসারে ‘পুশব্যাক’ নীতি কার্যকর করার ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের পরেই প্রশাসনের প্রতি এই কঠোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসা সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, সিএএ-র আওতায় থাকা সম্প্রদায়ের মানুষদের কোনওভাবে হয়রানি করা হবে না। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে আসা আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও জোরপূর্বক পদক্ষেপ নিতে পারবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের বক্তব্য, যাঁরা সিএএ-র আওতায় পড়ছেন না এবং বৈধ নথি ছাড়া দেশে প্রবেশ করেছেন, তাঁদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। সেই ক্ষেত্রেই পুলিশ বিএসএফের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এই ঘোষণার পর সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, আইন মেনে বৈধভাবে আশ্রয়প্রার্থী সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হবে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.