পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন গায়ক-প্রাক্তন সাংসদ কবীর সুমন। তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য, যেখানে তিনি জানিয়েছেন যে তিনি প্রকৃতপক্ষে তৃণমূলপন্থী নন এবং একপ্রকার অনিচ্ছাকৃতভাবে রাজনীতিতে এসেছিলেন, তা ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। এই প্রসঙ্গেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
তসলিমা নাসরিন সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে সুমনের অতীত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, অতীতে সুমন যে ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেছেন, তা কি তবে সম্পূর্ণই লোকদেখানো ছিল? তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেন সেই মন্তব্য, যেখানে সুমন বলেছিলেন ভবিষ্যতে মমতার নামে মন্দিরও তৈরি হতে পারে। তসলিমার প্রশ্ন— এমন মন্তব্য করতে কি কেউ তাঁকে বাধ্য করেছিল?
এখানেই থেমে থাকেননি তসলিমা। তিনি সুমনের বিভিন্ন কাজের তালিকা তুলে ধরে আরও কটাক্ষ করেন। যেমন— ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতার সমর্থনে প্রচারমূলক গান তৈরি, করোনা পরিস্থিতিতে তাঁর কাজের প্রশংসায় গান, এমনকি তাঁর নামে আলাদা সঙ্গীতরাগ সৃষ্টি। এই সবকিছুর প্রেক্ষিতে তসলিমার ব্যঙ্গ— এতকিছু করতে কি তাঁকে ‘হাতে-পায়ে ধরা’ হয়েছিল?
তসলিমা তাঁর পোস্টে আরও বলেন, যদি সত্যিই কারও অনুরোধে রাজনৈতিক অবস্থান বদলানো যায়, তবে ভবিষ্যতে আবার অন্য কোনও দলের দিকেও সুমন ঝুঁকতে পারেন— এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি।
অন্যদিকে, কবীর সুমন তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছেন, তিনি কখনও কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন না এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী, তাঁকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেই রাজনীতিতে আনা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, যদিও তিনি ভোট দিয়েছেন, তবুও দলের কাজকর্মে তিনি সন্তুষ্ট নন।
এই মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সুমনের অবস্থান পরিবর্তন এবং তসলিমার সমালোচনা— দুই মিলিয়ে বিষয়টি এখন সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রেও জায়গা করে নিয়েছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.