পুজোর রেড রোডে কর্নিভাল। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে আরম্ভ। প্রায় একই সময়ে রানী রাসমণি রাস্তায়ও অন্য একটি কর্নিভালের ডাক দেওয়া হয়েছে। ‘দ্রোহের কর্নিভাল’। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে আরম্ভ জমায়েত। আরজিকর কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ‘জয়েন্ট প্লাটফ্রম অফ ডক্টরস’-এর ডাকে দ্বিতীয় কর্নিভালটি। যার কোন পুলিশের সম্মতি নেই। এমন পরিস্থিতিতে ‘দ্রোহের কর্নিভাল’-এর কারণে পুজোর কর্নিভালে বাধা আসতে পারে বলে পুলিশ মনে করছে। তারা অশান্তি ছড়ানোর সন্দেহ করছে। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা ঘোষণা করলো কলকাতা পুলিশ প্রশাসক।
১৫ই অক্টোবর মঙ্গলবার একদিনের জন্য রানী রাসমণি অ্যাভেনিউ এবং পাশাপাশি এলাকায় ১৬৩ নং ধারা ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার রাতে এর জন্য কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মার স্বাক্ষর করা একটি নির্দেশনামা ঘোষণা করা হয়েছে। এই ধারা অনুসারে, আশেপাশে এলাকায় একসাথে চারজনের বেশি কেউ জড়ো হতে পারবেনা। লাঠি বা যেকোন অস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি করা যাবে না। এর পাশাপাশি কোন ধরনের মিছিল, সমাবেশ, ধর্না, প্রতিবাদ মিছিল, অথবা কোন বিক্ষোভ করা চলবে না ১৬৩ নং ধারা ঘোষণা করা এলাকায়।
কোন কোন এলাকায় জারি হয়েছে এই নিষেধাজ্ঞা?
রানী রাসমণি রোড- পূর্বে ডোরিনা ক্রসিং শুরু করে পশ্চিমে নেতাজী প্রতিমা পর্যন্ত। উত্তরে হাওড়া মেট্রোর গ্রিন চ্যানেল এবং রাসমণি পার্ক থেকে দক্ষিণের সেন্ট্রাল বাস টার্মিনাস এবং ভবানীপুর তাঁবু পর্যন্ত।
ওয়াই চ্যানেল- পূর্বে মেট্রো চ্যানেলের থানার পেছনদিক থেকে জহরলাল নেহেরু রোডের ধার বরাবর ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত। পশ্চিমে রানী রাসমণি অ্যাভেনিউ এবং ট্রাম লাইনের পূর্ব দিক পর্যন্ত। উত্তরে এসপ্ল্যানেড রো পূর্ব থেকে দক্ষিনে রানী রাসমনি অ্যাভেনিউ পর্যন্ত।
নিউ রোড- পূর্ব ডোরিনা ক্রসিং থেকে শুরু করে প্রেস ক্লাবের কাছের পূর্ব দিকের ফুটপাত পর্যন্ত। পশ্চিম ও ডোরিনা ক্রসিং থেকে প্রেস ক্লাবের পাশ দিয়ে পশ্চিম দিকের ফুটপাত পর্যন্ত। উত্তরে ডোরিনা ক্রসিং থেকে আরম্ভ করে রানী রাসমণি অ্যাভেনিউ এবং দক্ষিণে মেয়ো রোড অব্দি।
মেয়ো রোড- পশ্চিম রেড রোড থেকে আরম্ভ করে পূর্বের জহরলাল নেহেরু রোড পর্যন্ত। রেড রোড থেকে জহরলাল নেহেরু রোড পর্যন্ত দুই ধারেই পথে সমাবেশ নিষেধ করা হয়েছে।
আউটরাম রোড- পূর্বে জহরলাল নেহেরু রোড অব্দি এবং পশ্চিমে কেপি রোড, রেড রোড এবং ডাফরিন মিলিত স্থান পর্যন্ত। কেপি রোড, রেড রোড এবং ডাফরিন রোডের মিলিত স্থান থেকে জহরলাল নেহেরু রোড অব্দি উত্তর এবং দক্ষিণ দুই রাস্তাতেই মিটিং মিছিল নিষিদ্ধ।
একাডেমি অফ ফাইন আর্টসের সম্মুখে- রবীন্দ্রসদন থেকে ক্যাথিড্রাল গির্জা অব্দি। পশ্চিমে ক্যাথিড্রাল রোডের পশ্চিম দিকের ফুটপাত থেকে আরম্ভ করে মোহর কুঞ্জের সম্মুখের পথ পর্যন্ত। উত্তরের সেন্ট পলসের দক্ষিণ দিক থেকে হরিশ মুখার্জী রোড এবং এজেন্সি বোস রোডের মিলিত স্থান পর্যন্ত।
জহরলাল নেহেরু রোড- ধর্মতলা ক্রসিং থেকে আরম্ভ করে থিয়েটার রোড অব্দি দু দিকেরই রাস্তায় জমায়েত করা নিষেধ। উত্তরের ধর্মতলা ক্রসিং থেকে দক্ষিণের শেক্সপিয়ার সরণি এবং চৌরঙ্গী রোডের মিলিত স্থান পর্যন্ত।
কুইনস ওয়ে- পূর্বে ক্যাথিড্রাল রোড এবং শেক্সপিয়ার সরণি মিলিত স্থান থেকে পশ্চিমের কাসুয়ারিনা এভিনিউ এবং হসপিটাল রোডের মিলিত স্থান পর্যন্ত। ক্যাথিড্রাল রোড এবং শেক্সপিয়ার সরণি মিলিত স্থান থেকে ক্যাসুয়ারিনা এভিনিউ এবং হাসপাতাল রোডের মিলিত স্থান অব্দি উত্তর এবং দক্ষিণ ২দিকেই সমাবেশ করা নিষিদ্ধ।
স্ট্র্যান্ড রোড- উত্তরের হাওড়া ব্রিজগামী পথের মিলিত স্থান থেকে কমিশনারেট রাস্তার মিলিত স্থান অব্দি। হাওড়া ব্রিজগামী পথের মিলিত স্থান থেকে কমিশনারেট রাস্তার মিলিত স্থান অব্দি পূর্ব ও পশ্চিম দুই দিকেই পথে সমাবেশ নিষেধ।
এর পূর্বে ত্রিধারাকাণ্ডে দোষীদের জামিন করার সময় কলকাতা হাই কোর্ট জানিয়েছেন, পুজোর কর্নিভালে কোনরকম ভাবেই বাধা-বিপত্তি ঘটানো যাবেনা। হাইকোর্টের ১১ ই অক্টোবর ওই দিন আদেশের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেছেন, রানী রাসমণি এভিনিউ বা তার পাশাপাশি এলাকার ‘দ্রোহের কর্নিভাল’ নামে একটি প্রতিবাদী কর্মসূচির পরিকল্পনা চলছে। ওটার কারণে রেড রোডে পুজোর কর্নিভালে বাধা ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণ নাগরিকদেরও সমস্যা হতে পারে এবং উদ্বেগ ছড়াতে পারে। তার জন্যই এরকম আদেশ।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.