ভারতের কর্মসংস্থান পরিস্থিতিতে সামান্য হলেও উদ্বেগজনক ইঙ্গিত মিলেছে। সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৮ শতাংশে। এর আগের মাস নভেম্বরে এই হার ছিল ৪.৭ শতাংশ। পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের প্রকাশিত পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে (PLFS) রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে।
সংখ্যার বিচারে এই বৃদ্ধি খুব বড় না হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শ্রমবাজারের উপর বাড়তে থাকা চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে চাকরির বাজার এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। গ্রাম ও শহরের কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যানের মধ্যে যে ফারাক তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্টভাবেই চোখে পড়ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্বের হার প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে—প্রায় ৩.৯ শতাংশ। কৃষি ও গ্রামীণ নির্ভর কর্মসংস্থান এখনও তুলনামূলকভাবে স্থির থাকায় সেখানে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। কিন্তু শহরাঞ্চলে চিত্রটা ভিন্ন। ডিসেম্বর মাসে শহুরে বেকারত্ব বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.৭ শতাংশে, যেখানে নভেম্বরে এই হার ছিল প্রায় ৬.৫ শতাংশ।
এর অর্থ, চাকরির খোঁজে শহরের বাসিন্দাদের তুলনামূলকভাবে বেশি সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত হারে নতুন নিয়োগ না হওয়ায় শহরের শ্রমবাজারে চাপ বাড়ছে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
তবে শহুরে মহিলাদের ক্ষেত্রে সামান্য স্বস্তির খবর রয়েছে। ডিসেম্বরে শহরের মহিলাদের মধ্যে বেকারত্বের হার কিছুটা কমে হয়েছে প্রায় ৯.১ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল প্রায় ৯.৩ শতাংশ। যদিও এই হ্রাস সামান্য, তবু এটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
রিপোর্টে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে—শ্রমিক অংশগ্রহণের হার বৃদ্ধি। ডিসেম্বরে শ্রমিক অংশগ্রহণের হার বেড়ে হয়েছে প্রায় ৫৬.১ শতাংশ। অর্থাৎ আগের তুলনায় বেশি মানুষ কাজের বাজারে প্রবেশ করছেন বা চাকরি খুঁজছেন। একই সঙ্গে কর্মী-জনসংখ্যা অনুপাতও কিছুটা বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রমবাজারে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়লে প্রাথমিকভাবে বেকারত্বের হার সামান্য বেড়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। কারণ নতুন করে যারা কাজ খুঁজতে আসছেন, তাঁদের সবাই সঙ্গে সঙ্গে চাকরি পান না। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবণতা ইতিবাচক হতে হলে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, দেশের শ্রমবাজারে এখনও বড়সড় ধস নামেনি ঠিকই, কিন্তু শহরাঞ্চলের চাকরির পরিস্থিতি স্পষ্টতই চ্যালেঞ্জের মুখে। আগামী মাসগুলিতে শিল্প, পরিষেবা ও পরিকাঠামো খাতে নিয়োগ বাড়াতে না পারলে বেকারত্বের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে এখনই অগ্রাধিকার না দিলে এই সামান্য বৃদ্ধিই ভবিষ্যতে বড় সমস্যার রূপ নিতে পারে—এমনই সতর্কবার্তা দিচ্ছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.