ভারতীয় সংস্কৃতিতে কোনও শুভ কাজের আগে নানা রীতি মেনে চলার প্রচলন বহু পুরনো। কেউ ইষ্টদেবতার নাম স্মরণ করেন, কেউ দই-মিষ্টি খেয়ে বেরোন, আবার কেউ নির্দিষ্ট সময় দেখে যাত্রা শুরু করেন। তবে প্রাচীন যোগশাস্ত্র ও স্বর বিজ্ঞানে এমন একটি নিয়মের উল্লেখ রয়েছে, যা অনেকের কাছেই এখনও অজানা—ঘর থেকে বেরোনোর সময় কোন পা আগে বাইরে পড়ছে, সেটিও নাকি কাজের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
স্বর শাস্ত্র অনুযায়ী, মানুষের শরীরে তিনটি প্রধান নাড়ি সক্রিয় থাকে—ইড়া, পিঙ্গলা ও সুষুম্না। এই নাড়িগুলির সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাসের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। শরীরের বাঁ দিকের শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে ইড়া নাড়ি, যা চন্দ্র শক্তির প্রতীক বলে মনে করা হয়। অন্যদিকে ডান দিকের শক্তির সঙ্গে যুক্ত পিঙ্গলা নাড়ি, যা সূর্য শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে।
যখন বাঁ নাসারন্ধ্র দিয়ে বেশি শ্বাস চলাচল করে, তখন ইড়া নাড়ি সক্রিয় থাকে বলে ধরা হয়। এই অবস্থায় মন অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকে, আবেগ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং মানসিক ভারসাম্য বজায় থাকে। অন্যদিকে ডান নাসারন্ধ্র সক্রিয় থাকলে পিঙ্গলা নাড়ি প্রভাবশালী হয়। তখন শরীরে উদ্যম, আত্মবিশ্বাস ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী, ঘর থেকে বেরোনোর মুহূর্তে যে নাসারন্ধ্র বেশি সক্রিয় থাকবে, সেই দিকের পা আগে বাইরে রাখা শুভ বলে ধরা হয়। অর্থাৎ, যদি বাঁ দিকের শ্বাস বেশি সক্রিয় থাকে, তাহলে বাঁ পা আগে ফেলতে হবে। আর ডান দিক সক্রিয় থাকলে ডান পা আগে বাড়ানোই শুভ। মনে করা হয়, এতে শরীরে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজে বাধা কমে।
শুধু বাইরে যাওয়ার সময় নয়, সকালে ঘুম থেকে ওঠার ক্ষেত্রেও এই নিয়ম মানার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে দিনের শুরুতে সক্রিয় স্বর অনুযায়ী পা মাটিতে রাখলে মানসিক স্থিরতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে বলে বিশ্বাস করেন অনেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের শ্বাসের প্রবাহ সারাক্ষণ একরকম থাকে না। সাধারণত ৬০ থেকে ৯০ মিনিট অন্তর নাসারন্ধ্রের সক্রিয়তা পরিবর্তিত হয়। তাই গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, পরীক্ষা, ইন্টারভিউ বা দীর্ঘ যাত্রার আগে নিজের শ্বাসের প্রবাহ পরীক্ষা করে নেওয়া অনেকেই শুভ মনে করেন।
এই পরীক্ষা করাও খুব সহজ। নাকের নীচে হাত রেখে জোরে শ্বাস ছাড়লেই বোঝা যায় কোন নাসারন্ধ্র দিয়ে বেশি বাতাস বের হচ্ছে। যে দিক দিয়ে বেশি বাতাস অনুভূত হবে, সেটিই সেই মুহূর্তের সক্রিয় স্বর।
যদিও এই ধারণাগুলি মূলত প্রাচীন যোগশাস্ত্র ও লোকবিশ্বাসের অংশ, তবুও আজও বহু মানুষ এগুলিকে দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করেন। তাঁদের বিশ্বাস, শরীরের স্বাভাবিক শক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ শুরু করলে মনোসংযোগ ও আত্মবিশ্বাস দুটোই বৃদ্ধি পায়, যা সাফল্যের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.