সংসদের দুই কক্ষেই যখন মহিলা সংরক্ষণ বিলের নতুন সংশোধনী ঘিরে তীব্র বিতর্ক চলছে, ঠিক সেই সময়েই কেন্দ্রীয় সরকার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়। ২০২৩ সালে পাস হওয়া মহিলা সংরক্ষণ আইন হঠাৎ করেই কার্যকর করার ঘোষণা করা হয়। ফলে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
এই ইস্যুতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ ছিল। বৃহস্পতিবার সেই বিরোধ চরমে পৌঁছয়, যখন গভীর রাত পর্যন্ত সংসদে এই বিল নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা চলে। বিরোধীরা যেখানে এই সংশোধনীর বিরোধিতা করে সরব, সেখানে সরকার নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে। শুক্রবার এই বিল নিয়ে ভোটাভুটির কথা রয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে দেশের লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের আইন পাশ করানো হয়। সেই সময় বিরোধী দলগুলিও এই বিলকে সমর্থন করেছিল। তবে আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, নতুন জনগণনা এবং তার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের পরেই এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে।
কিন্তু ২০১১ সালের পর দেশে আর কোনও জনগণনা হয়নি। ফলে সেই আইনের বাস্তবায়ন দীর্ঘদিন আটকে ছিল। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার নতুন করে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জনগণনার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০১১ সালের জনগণনার তথ্য অথবা বর্তমান আসনের অনুপাতের ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাস করে সংরক্ষণ কার্যকর করা যেতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আসন পুনর্বিন্যাসের ক্ষমতাও সরকারের হাতে রাখতে চাওয়া হচ্ছে, যাতে বারবার সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন না পড়ে।
এই প্রস্তাবেই আপত্তি তুলেছে বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, এর ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর সরকারের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে সংসদে তীব্র বাকবিতণ্ডা চলছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রক একটি বিবৃতি দিয়ে জানায় যে, ২০২৩ সালের মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করা হচ্ছে। যদিও এই সিদ্ধান্তের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ সরকারিভাবে জানানো হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এটি একটি পদ্ধতিগত পদক্ষেপ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আগে থেকে আইন কার্যকর না করা হতো, তাহলে নতুন সংশোধনী পাস হলেও বাস্তবে তা প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ত। তাই প্রশাসনিক দিক বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
এখন নজর রয়েছে সংসদের ভোটাভুটির দিকে। নতুন সংশোধনী পাশ হলে মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে কি না, তা নিয়েই জল্পনা তুঙ্গে। পাশাপাশি এই ইস্যু আগামী দিনে দেশের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.