মুরগির মাংস বাঙালির পাতে অত্যন্ত জনপ্রিয়। দৈনন্দিন রান্না থেকে উৎসবের ভোজ— সব জায়গাতেই চিকেনের কদর আলাদা। প্রোটিনসমৃদ্ধ এবং তুলনামূলক কম দামের হওয়ায় অনেকেই নিয়মিত মুরগির মাংস খেয়ে থাকেন। তবে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, মুরগির সব অংশ সমান নিরাপদ নয়। কিছু অংশে অতিরিক্ত ফ্যাট, ব্যাকটেরিয়া কিংবা ক্ষতিকর উপাদান জমে থাকতে পারে, যা দীর্ঘদিন খেলে শরীরের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
১) মুরগির ছাল
অনেকেই মচমচে চিকেন স্কিন খেতে ভালোবাসেন। কিন্তু এই অংশে থাকে প্রচুর স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরল। অতিরিক্ত খেলে হৃদরোগ, ওজন বৃদ্ধি এবং কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ঠিকমতো রান্না না হলে ছালের মধ্যে জীবাণুও থেকে যেতে পারে।

২) ফুসফুস বা ‘কচকচি’
অনেক অঞ্চলে মুরগির ফুসফুস বিশেষ পদ হিসেবে রান্না করা হয়। কিন্তু এই অংশে অণুজীব, প্যারাসাইট বা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকার আশঙ্কা বেশি। উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না হলেও সবসময় তা পুরোপুরি নষ্ট নাও হতে পারে।
৩) মুরগির মাথা
পোলট্রি খামারে ব্যবহৃত খাবার বা রাসায়নিকের কিছু উপাদান মুরগির মাথার টিস্যুতে জমা হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা। দীর্ঘদিন নিয়মিত খেলে শরীরে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
৪) নাড়িভুঁড়ি
মুরগির অন্ত্র বা নাড়িভুঁড়ি পরিষ্কার করা অত্যন্ত কঠিন। অনেক সময় এর ভিতরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে যায়, যা ফুড পয়জনিং, পেটের সংক্রমণ কিংবা হজমের গোলমাল ডেকে আনতে পারে।
৫) মুরগির পা
চিকেন পায়ে কোলাজেন থাকলেও নখ ও পায়ের ভাঁজে ময়লা, জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া জমে থাকতে পারে। ঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়।
৬) কলিজা
মুরগির কলিজা আয়রনের উৎস হলেও এটি শরীরের বিষাক্ত উপাদান ছেঁকে রাখার কাজ করে। ফলে অতিরিক্ত খেলে শরীরে ক্ষতিকর উপাদান প্রবেশের আশঙ্কা থাকে। যাঁদের কোলেস্টেরল বা ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা আছে, তাঁদের বিশেষ সতর্ক থাকা দরকার।
৭) গলা
মুরগির গলার অংশে ব্যাকটেরিয়া জমে থাকার সম্ভাবনা বেশি। রান্নার আগে বারবার ধোয়া এবং ভালোভাবে সেদ্ধ করা জরুরি। না হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কীভাবে নিরাপদে চিকেন খাবেন?
*সবসময় তাজা ও ভালো মানের মুরগির মাংস কিনুন
*রান্নার আগে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করুন
*পর্যাপ্ত তাপে সম্পূর্ণ সেদ্ধ করুন
*অতিরিক্ত তেল-মশলা এড়িয়ে চলুন
*সন্দেহজনক গন্ধ বা রঙের মাংস কখনও খাবেন না
সঠিকভাবে রান্না করা চিকেন শরীরের জন্য উপকারী হলেও, কোন অংশ কতটা খাওয়া উচিত সে বিষয়ে সচেতন থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।