চুল পড়া এখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকেরই বড় উদ্বেগের কারণ। বাজারে নানা ধরনের শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, সিরাম কিংবা হেয়ার মাস্ক পাওয়া গেলেও শুধুমাত্র ভালো পণ্য ব্যবহার করলেই চুল সুস্থ থাকবে, এমন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের যত্নে ব্যবহৃত প্রসাধনীর পাশাপাশি মাথা ধোয়ার সঠিক পদ্ধতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় ভুলভাবে শ্যাম্পু করার অভ্যাসই চুলের ক্ষতি, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া কিংবা অতিরিক্ত চুল পড়ার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।
কেশ পরিচর্যা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি চুল ঝরে পড়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। কারণ চুলের বৃদ্ধি ও ঝরে যাওয়ার একটি স্বাভাবিক চক্র রয়েছে। তবে যদি প্রতিদিন এর চেয়ে অনেক বেশি চুল পড়তে থাকে, কিংবা চুলের ঘনত্ব দ্রুত কমতে শুরু করে, তাহলে মাথার ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
শ্যাম্পু করার সঠিক ৭টি ধাপ

১. শুধু মাথার ত্বক পরিষ্কার করুন
অনেকেই গোটা চুলে শ্যাম্পু মেখে ফেলেন। কিন্তু শ্যাম্পুর মূল কাজ হলো মাথার ত্বক পরিষ্কার করা। তাই শ্যাম্পু সরাসরি স্ক্যাল্পে লাগিয়ে আঙুলের ডগা দিয়ে আলতোভাবে মালিশ করুন। এতে জমে থাকা ঘাম, তেল, ধুলো, খুশকি ও বিভিন্ন প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ সহজে দূর হবে।
২. শ্যাম্পু বেশিক্ষণ রেখে দেবেন না
শ্যাম্পু লাগিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। মাথার ত্বক পরিষ্কার হয়ে গেলে ভালোভাবে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রয়োজন অনুযায়ী সপ্তাহে একাধিকবার চুল ধোয়া উচিত। দীর্ঘদিন স্ক্যাল্প অপরিষ্কার থাকলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
৩. ব্যবহৃত জলের মানের দিকে নজর দিন
চুলের যত্নে জলের গুণগত মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দূষিত বা অতিরিক্ত ধাতব উপাদানযুক্ত জল চুলের ক্ষতি করতে পারে। প্রয়োজনে ফিল্টার ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া খুব গরম জল এড়িয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রার জল ব্যবহার করাই ভালো, কারণ অতিরিক্ত গরম জল স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে দেয়।
৪. তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষবেন না
চুল ধোয়ার পর অনেকেই তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষে শুকনো করেন। এতে চুল ভেঙে যাওয়া এবং আগা ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বরং অতিরিক্ত জল আলতোভাবে শুষে নিয়ে চুলকে স্বাভাবিকভাবে শুকোতে দিন। প্রয়োজনে লিভ-ইন কন্ডিশনার ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫. বারবার ব্র্যান্ড পরিবর্তন না করাই ভালো
শুধু বিজ্ঞাপনের প্রভাবে বারবার শ্যাম্পু বদলানো চুলের জন্য সবসময় উপকারী নয়। নিজের চুলের ধরন অনুযায়ী এক বা দুইটি নির্ভরযোগ্য পণ্য বেছে নিন। দীর্ঘ সময় একই পণ্য ব্যবহার করলেও সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে পরিবর্তন করা যেতে পারে।
৬. মাস্ক ও কন্ডিশনার সঠিক সময়ে ব্যবহার করুন
চুল ধোয়ার পরে চুলের বাইরের স্তর কিছুটা উন্মুক্ত থাকে। এই সময়ে হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলে তা আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে। এরপর কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুলে আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং চুল নরম ও মসৃণ হয়।
৭. অতিরিক্ত পণ্য ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শ্যাম্পু বা অন্য কেশ প্রসাধনী ব্যবহার করলে উল্টো ক্ষতি হতে পারে। চুল ও মাথার ত্বকের প্রয়োজন বুঝে সীমিত পরিমাণে পণ্য ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো অভ্যাস।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি প্রতিদিন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি চুল পড়ে, মাথার ত্বকে চুল পাতলা হয়ে যেতে শুরু করে, বা চুল পড়ার সঙ্গে চুলকানি, খুশকি কিংবা জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে ত্বক ও কেশ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সুস্থ, ঘন ও উজ্জ্বল চুলের জন্য দামি প্রসাধনীর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত ও সঠিক পরিচর্যা। শ্যাম্পু করার কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললেই চুলের স্বাস্থ্য অনেকটাই ভালো রাখা সম্ভব।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.