ইরানে বর্তমানে যে আর্থিক সংকট চলছে, তা বিশ্বের নজর কেড়েছে। একদিকে কট্টর মোল্লাতন্ত্রের কঠোর আইন, অন্যদিকে লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতি—সব মিলিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ ইরানিদের। দেশের নানা প্রান্তে চলছে বিক্ষোভ। মানুষের ক্ষোভের মূল কারণ, কাজ করে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে উঠেছে। কারণ বেতন অত্যন্ত কম, অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া।
ইরানের মুদ্রার দরপতনের পরিসংখ্যান দেখলেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়। বর্তমানে ভারতে ১ ডলারের দাম প্রায় ৯০.২৭ টাকা। অথচ ইরানে ১ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৯ লক্ষ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়াল। অর্থাৎ ভারতের ১ টাকার বিনিময়ে মিলছে প্রায় ১১,০১২ ইরানি রিয়াল। এই হিসেব থেকেই বোঝা যায়, ইরানে মুদ্রাস্ফীতি কোন স্তরে পৌঁছেছে।
তবে মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় পর্যটকদের কাছে ইরান যেন ‘সস্তার স্বর্গ’। কথায় আছে, পকেটে ৫ হাজার টাকা থাকলেই সেখানে নিজেকে মহারাজার মতো মনে হতে পারে। বাস্তবে যদি কারও কাছে ২ হাজার ভারতীয় টাকা থাকে, তাহলে ইরানে সে অর্থে বেশ স্বচ্ছন্দেই ঘোরাফেরা করা সম্ভব।
জ্বালানির দামে ইরান এখনও বিশ্বের অন্যতম সস্তা দেশ। প্রথম ৬০ লিটার পেট্রলের দাম মাত্র ১৫,০০০ রিয়াল, অর্থাৎ প্রায় ০.০১৩ ডলার। এরপর ১০০ লিটার পেট্রলে খরচ পড়ে মাত্র ০.০২৬ ডলার। ডিমের দামও তুলনামূলক কম—প্রতি পিস প্রায় ৪ টাকা। তবে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেকটাই বেশি।
খাবারদাবার ও পরিবহণের খরচের দিকেও নজর দেওয়া যাক। ইরানে ১ লিটার দুধের দাম প্রায় ২০,০০০ রিয়াল, ১ লিটার জুস ৫০,০০০ রিয়াল, দই ৪০,০০০ রিয়াল। যে কোনও সবজির দাম কেজিপ্রতি কমপক্ষে ২০,০০০ রিয়াল। এক ঘণ্টার ট্যাক্সি ভাড়া পড়ে প্রায় ২ লক্ষ রিয়াল, আর তেহরান মেট্রোতে একজনের ন্যূনতম ভাড়া ৫,০০০ রিয়াল।
থাকার খরচেও রয়েছে বড় ফারাক। ইরানে একটি ফাইভ স্টার হোটেলের খরচ দৈনিক প্রায় ৭০ ডলার। অর্থাৎ যদি কেউ ৫০,০০০ টাকা বাজেট নিয়ে ইরান সফরে যান, তাহলে অনায়াসেই বিলাসবহুল হোটেলে থাকা সম্ভব। কারণ ওই টাকায় মিলবে প্রায় ৫৫০ কোটি রিয়ালের বেশি। আবার চাইলে মাত্র ৩,০০০ টাকাতেই ভালো মানের হোটেল পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে ইরানের অর্থনৈতিক বাস্তবতা একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের কাছে ভয়াবহ, অন্যদিকে পর্যটকদের কাছে অবিশ্বাস্য রকম সস্তা। মুদ্রাস্ফীতি, কম বেতন ও কড়া আইনের চাপে জর্জরিত ইরানের মানুষ আজ চরম সংকটে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.