ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় রঙের উৎসব দোল বা হোলি। এই দিনটি আনন্দ, ভালোবাসা ও নতুন সূচনার প্রতীক। বিশেষ করে সদ্য বিবাহিত দম্পতিদের জন্য প্রথম দোল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বাস করা হয়, বিবাহিত জীবনের প্রথম দোল তাঁদের সম্পর্ককে আরও মজবুত ও রঙিন করে তোলে।
তবে জ্যোতিষশাস্ত্র ও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, এই শুভ দিনে কিছু কাজ একেবারেই করা উচিত নয়। তা না হলে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কোন রং এড়িয়ে চলবেন?
দোল মানেই রঙের উৎসব। কিন্তু সব রং যে সমান শুভ, তা নয়।
কালো রঙের পোশাক দোলের দিন একেবারেই পরা উচিত নয়।
বিশেষ করে ন্যাড়া পোড়া বা হোলিকা দহনের সময় কালো রং অশুভ বলে মনে করা হয়।
বিশ্বাস করা হয়, কালো রং নেতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করে।
অন্যদিকে, নতুন বিবাহিতা মহিলাদের জন্য লাল বা হলুদ রং শুভ। পুরো সাদা পোশাকও এ দিন এড়িয়ে চলাই ভালো।
প্রথম দোল শ্বশুরবাড়িতে কাটানো উচিত নয়?
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বিয়ের পর প্রথম হোলি শ্বশুরবাড়িতে কাটানো শুভ নয়। বিশেষ করে হোলিকা দহনের আগুন শাশুড়ি ও বউমার একসঙ্গে দেখা অমঙ্গলজনক বলে ধরা হয়।
লোকবিশ্বাস আছে, এতে সংসারে কলহ বা অশান্তির আগুন জ্বলে উঠতে পারে। তাই অনেকেই প্রথম বছর মেয়েকে বাপের বাড়িতে দোল কাটানোর পরামর্শ দেন। আবার কেউ কেউ স্বামী-স্ত্রী মিলে অন্যত্র সময় কাটান।
বিয়ের উপহার অন্যকে দেওয়া ঠিক নয়
অনেক নতুন বউ বিয়েতে পাওয়া উপহার আত্মীয়দের মধ্যে বিলিয়ে দেন। কিন্তু বিশ্বাস করা হয়, হোলিকা দহনের আগে বিয়েতে পাওয়া কোনও উপহার কাউকে দেওয়া উচিত নয়।
এতে সংসারে সমস্যা বা আর্থিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করা হয়।
হোলিকা দহন দেখা থেকেও বিরত থাকুন
জ্যোতিষ মতে, বিবাহের প্রথম বছরে হোলিকা দহন না দেখাই ভালো। এটি অশুভ শক্তির প্রতীকী দহন হিসেবে ধরা হয়, তাই নতুন দাম্পত্য জীবনে অপ্রয়োজনীয় প্রভাব এড়াতে এই রীতি মানা হয়।
উপসংহার
দোল উৎসব আনন্দ ও রঙের প্রতীক হলেও, সদ্য বিবাহিতদের জন্য কিছু বিশেষ বিধি-নিষেধ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। এগুলি মূলত লোকবিশ্বাস ও জ্যোতিষ নির্ভর রীতি।
বিশ্বাস থাকলে নিয়ম মানা যেতে পারে, তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়াই দাম্পত্য জীবনের আসল ভিত্তি।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.