রান্নাঘর শুধু খাবার তৈরির স্থান নয়, বাস্তুশাস্ত্র মতে এটি পরিবারের শক্তিকেন্দ্র। আগুনের প্রতীক হিসেবে রান্নাঘরকে অত্যন্ত পবিত্র ধরা হয়। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী এখানে মা অন্নপূর্ণার অধিষ্ঠান, তাই এই স্থান পরিচ্ছন্ন ও সঠিকভাবে সাজানো অত্যন্ত জরুরি। রান্নাঘরের সঠিক বাস্তু বিন্যাস পরিবারে সুখ, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য নিয়ে আসে। অন্যদিকে সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে অশান্তি ও আর্থিক ক্ষতি।
আগুন ও জল একসঙ্গে নয়
বাস্তুশাস্ত্রে আগুন ও জলকে পরস্পর বিরোধী উপাদান বলা হয়। তাই রান্নাঘরে গ্যাসের ওভেন (আগুনের প্রতীক) এবং বাসন ধোয়ার সিঙ্ক (জলের প্রতীক) কখনও পাশাপাশি রাখা উচিত নয়। এই দুই উপাদান কাছাকাছি থাকলে শক্তির সংঘর্ষ তৈরি হয়। এর ফলে—
পরিবারের আর্থিক উন্নতিতে বাধা সৃষ্টি হতে পারে
সদস্যদের মধ্যে অশান্তি ও ঝগড়া বাড়তে পারে
স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে
মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে
বিশেষ করে ছোট ফ্ল্যাটের রান্নাঘরে জায়গার অভাবে অনেক সময় এই ভুল হয়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সঠিক দিক নির্ধারণ জরুরি
বাস্তু মতে রান্নাঘরের গ্যাসের ওভেন দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রাখা শুভ। আর সিঙ্ক রাখা উচিত উত্তর-পূর্ব দিকে। যদি কাঠামোগত কারণে তা সম্ভব না হয়, তাহলে গ্যাস ও সিঙ্কের মাঝে একটি কাঠের পার্টিশন বা বোর্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি দুই বিপরীত শক্তির সংঘর্ষ কমাতে সাহায্য করে।
বাস্তু ত্রুটি দূর করার উপায়
রান্নাঘরের বাস্তু দোষ কাটাতে কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে—
রান্নাঘরে একটি সবুজ গাছ রাখা শুভ
সিঙ্ক সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখা
দীর্ঘ সময় নোংরা বাসন সিঙ্কে না রাখা
রান্নার কাজ শেষে সিঙ্ক ধুয়ে মুছে ফেলা
এছাড়া গ্যাসের চুলার একেবারে পাশে পানীয় জল রাখা উচিত নয়। এটিও আগুন ও জলের সংঘর্ষ তৈরি করে।
ডাস্টবিন নিয়েও সতর্কতা
বাস্তুশাস্ত্র মতে রান্নাঘরে খোলা ডাস্টবিন রাখা অশুভ। একান্ত প্রয়োজন হলে ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিন ব্যবহার করুন। প্রতিদিন আবর্জনা ফেলে পরিষ্কার রাখুন এবং নিয়মিত ধুয়ে নিন। নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ নেতিবাচক শক্তি বাড়ায়।
রান্নাঘর পরিবারের প্রাণকেন্দ্র। তাই ছোট জায়গা হলেও সঠিক নিয়ম মেনে সাজানো জরুরি। আগুন ও জল—এই দুই শক্তিকে সঠিক দূরত্বে রাখলে বাড়িতে শান্তি, সমৃদ্ধি ও ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বজায় থাকে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.