AI স্মার্টফোনে নতুন চমক আনতে পারে অ্যামাজন, বাজারে অ্যাপলের সঙ্গে টক্করের ইঙ্গিত

প্রযুক্তি দুনিয়ায় বড় চমক নিয়ে আবারও স্মার্টফোন বাজারে ফিরতে পারে ই-কমার্স জায়ান্ট Amazon। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, সংস্থাটি নতুন ধরনের একটি স্মার্টফোন তৈরির পরিকল্পনা করছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ব্যবহার বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। প্রযুক্তি মহলে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আলোচনা শুরু হয়েছে—এই পদক্ষেপ কি স্মার্টফোন বাজারে Apple-এর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতার সূচনা করবে?

অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন পরিকল্পনা

এটা অবশ্য প্রথমবার নয় যে অ্যামাজন স্মার্টফোন তৈরির চেষ্টা করছে। ২০১৪ সালে সংস্থাটি Amazon Fire Phone বাজারে আনে। সেই সময় ফোনটির কিছু নতুন প্রযুক্তি থাকলেও প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি। বিক্রি কম হওয়ায় শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্পে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল কোম্পানিকে। সেই অভিজ্ঞতার পর দীর্ঘ সময় স্মার্টফোনের বাজার থেকে দূরেই ছিল অ্যামাজন।

তবে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং AI-এর উত্থান নতুন করে সুযোগ তৈরি করেছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতেই আবার এই সেগমেন্টে প্রবেশের পরিকল্পনা করছে বলে জানা যাচ্ছে।

নতুন ফোনের কোডনেম ‘Transformer’

রয়টার্স-সহ বিভিন্ন সূত্রের দাবি, অ্যামাজনের সম্ভাব্য নতুন স্মার্টফোনটির একটি অভ্যন্তরীণ কোডনেম রাখা হয়েছে—‘Transformer’। যদিও এটি এখনও আনুষ্ঠানিক নাম নয়, তবে প্রকল্পটি যে গুরুত্ব সহকারে এগোচ্ছে, তা থেকেই বোঝা যায়।

এই ফোনের অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে পারে অ্যামাজনের নিজস্ব ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট Amazon Alexa-এর গভীর ইন্টিগ্রেশন। ব্যবহারকারীরা যেন কেবল ভয়েস কমান্ড দিয়েই নানা কাজ করতে পারেন—সেই লক্ষ্যেই প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

অ্যামাজনের পরিষেবাগুলির সঙ্গে সরাসরি সংযোগ

নতুন স্মার্টফোনে অ্যামাজনের বিভিন্ন জনপ্রিয় পরিষেবা সহজেই ব্যবহার করা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেমন—

Amazon Prime Video

Amazon Music

Kindle Store

এই পরিষেবাগুলি ফোনের মধ্যেই এমনভাবে যুক্ত থাকতে পারে, যাতে ব্যবহারকারীরা আলাদা করে অ্যাপ খোঁজার ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত ব্যবহার করতে পারেন। অনেকটা যেভাবে অ্যাপল তাদের ডিভাইসে নিজস্ব ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে, তেমন একটি অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্য থাকতে পারে অ্যামাজনের।

ZeroOne টিমের উপর দায়িত্ব

অ্যামাজনের ডিভাইস বিভাগে ‘ZeroOne’ নামে একটি বিশেষ গবেষণা দল রয়েছে। নতুন প্রযুক্তি এবং ডিভাইস উদ্ভাবনের কাজই এই দলের মূল লক্ষ্য। জানা গেছে, এই দলই বর্তমানে স্মার্টফোন প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে।

শুধু স্মার্টফোন নয়, ভবিষ্যতের জন্য সাধারণ ফোন বা অন্য ধরনের ডিভাইস নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে তারা। এর ফলে বোঝা যায়, অ্যামাজন হার্ডওয়্যার ইকোসিস্টেম আরও বড় করতে চাইছে।

AI হবে বড় ফোকাস

এই নতুন ফোনে AI-এর ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। ব্যবহারকারীর অভ্যাস বুঝে পরিষেবা সাজানো, ভয়েস-নিয়ন্ত্রিত ফিচার, স্মার্ট অটোমেশন—এ ধরনের নানা সুবিধা থাকতে পারে। এতে ফোনটি শুধু একটি ডিভাইস নয়, বরং একটি স্মার্ট ডিজিটাল সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারে।

কবে আসবে বাজারে?

যদিও প্রকল্প নিয়ে আলোচনা বাড়ছে, তবে ফোনটি কবে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসবে সে বিষয়ে এখনও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই প্রকল্প সফল হয়, তবে স্মার্টফোন বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, AI-চালিত নতুন স্মার্টফোন নিয়ে অ্যামাজনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রযুক্তি জগতে বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, অতীতের অভিজ্ঞতা কাটিয়ে অ্যামাজন এবার কতটা সফলভাবে বাজারে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক