রূপকুন্ডের রহস্য: বরফ গললেই ভেসে ওঠে শত শত কঙ্কাল

হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এক অদ্ভুত ও রহস্যময় হ্রদের নাম Roopkund Lake। উত্তরাখণ্ডের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত এই হ্রদকে অনেকেই ‘স্কেলিটন লেক’ বা ‘কঙ্কাল হ্রদ’ বলে ডাকেন। কারণ, বছরের বেশিরভাগ সময় বরফে ঢাকা থাকলেও বরফ গললেই হ্রদের চারপাশে ও জলের মধ্যে দেখা যায় অসংখ্য মানুষের কঙ্কাল। এই অদ্ভুত দৃশ্যই বহু বছর ধরে গবেষক, পর্যটক ও ইতিহাসবিদদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

হিমালয়ের উচ্চতায় রহস্যময় হ্রদ

রূপকুন্ড সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। ঘন জঙ্গল, দুর্গম পাহাড়ি পথ ও বরফঢাকা পরিবেশ পেরিয়ে সেখানে পৌঁছাতে হয়। হ্রদের চারপাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে ত্রিশূল ও নন্দা ঘুন্টির মতো বিখ্যাত পর্বতশৃঙ্গ। প্রায় ৪০ মিটার বিস্তৃত এই ছোট হ্রদটি দেখতে শান্ত হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে শতাব্দী পুরনো রহস্য।

বছরের বেশিরভাগ সময় বরফে ঢাকা থাকার কারণে হ্রদের ভিতরের দৃশ্য দেখা যায় না। কিন্তু গ্রীষ্মকালে বরফ গলতে শুরু করলেই জলের তলায় এবং আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য মানবকঙ্কাল চোখে পড়ে। এ দৃশ্য প্রথম দেখলে অনেকেই বিস্মিত হয়ে যান—এত কঙ্কাল এখানে এল কীভাবে?

কঙ্কাল আবিষ্কারের ঘটনা

১৯৪২ সালে এক বনকর্মী প্রথম এই কঙ্কালগুলির অস্তিত্ব লক্ষ্য করেন। সেই সময় বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে এবং তদন্ত শুরু হয়। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, এগুলি হয়তো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিহত কোনো সৈনিক দলের দেহাবশেষ। কিন্তু পরে গবেষণায় জানা যায়, এই কঙ্কালগুলোর বয়স অনেক বেশি পুরনো—শত শত বছর আগের।

এই আবিষ্কারের পর থেকেই রূপকুন্ডকে ঘিরে নানা প্রশ্ন তৈরি হতে শুরু করে। এত মানুষ একসঙ্গে এখানে কীভাবে মারা গেলেন, তা নিয়ে নানা মত উঠে আসে।

বৈজ্ঞানিক গবেষণা কী বলছে

দীর্ঘদিন ধরে মনে করা হতো, এই সব কঙ্কাল একসঙ্গে মারা যাওয়া একটি দল বা যাত্রাপথে থাকা মানুষের। সবচেয়ে প্রচলিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব অনুযায়ী, ভয়াবহ শিলাবৃষ্টির কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছিল। গবেষকরা অনেক কঙ্কালের মাথার খুলিতে একই ধরনের গভীর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এই আঘাতগুলো এমনভাবে হয়েছিল, যেন ওপর থেকে গোলাকার শক্ত বস্তু পড়ে মাথায় আঘাত করেছে।
এ থেকেই ধারণা করা হয়, প্রবল ঝড়ের সঙ্গে বিশাল আকারের শিলাবৃষ্টি হয়েছিল, যা থেকে বাঁচার সুযোগ পাননি সেই মানুষগুলো।

তবে পরে আরও উন্নত গবেষণা ও ডিএনএ বিশ্লেষণে একটি নতুন তথ্য সামনে আসে। বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, এই কঙ্কালগুলো আসলে একসময়কার নয়। বরং বিভিন্ন সময়ের মানুষের দেহাবশেষ এখানে রয়েছে। কিছু মানুষ প্রায় এক হাজার বছরের ব্যবধানে ভিন্ন সময়ে এখানে মারা গিয়েছিলেন।

আরও অবাক করা বিষয় হলো, সব কঙ্কাল ভারতের মানুষের নয়। ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায়, কিছু মানুষের উৎস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, এমনকি ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গেও মিল পাওয়া গেছে। ফলে বোঝা যায়, বিভিন্ন সময় নানা জায়গা থেকে আসা মানুষ কোনো না কোনোভাবে এই দুর্গম এলাকায় পৌঁছেছিলেন এবং মৃত্যুর মুখে পড়েছিলেন।

লোককথার রহস্যময় গল্প

বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিলেও স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে এক গা ছমছমে লোককাহিনি। সেই কাহিনি অনুযায়ী, জসধাবল নামে এক রাজা তাঁর গর্ভবতী রানী, নর্তকী ও অনুচরদের নিয়ে দেবী নন্দা দেবীর তীর্থযাত্রায় বেরিয়েছিলেন। কিন্তু যাত্রাপথে তারা এমন কিছু কাজ করেছিলেন, যা দেবীকে রুষ্ট করে তোলে।
এরপর দেবী নাকি ভয়ঙ্কর ঝড় ও শিলাবৃষ্টি নামিয়ে দেন, যার ফলে যাত্রাদলের সবাই মারা যান। স্থানীয় মানুষের কাছে এই গল্প বহু বছর ধরে প্রচলিত এবং অনেকেই বিশ্বাস করেন, রূপকুন্ডের কঙ্কাল সেই ঘটনারই সাক্ষ্য বহন করে।

রহস্য আজও অমীমাংসিত

বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইতিহাস ও লোককথা—সব মিলিয়ে রূপকুন্ড আজও রহস্যময়। কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলেও এখনও পুরো সত্য স্পষ্ট হয়নি। কেন বিভিন্ন সময়ের মানুষ এই দুর্গম এলাকায় এসেছিলেন, কীভাবে তারা মারা গেলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছেন গবেষকরা।

তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—হিমালয়ের কোলে লুকিয়ে থাকা এই ছোট্ট হ্রদ পৃথিবীর অন্যতম অদ্ভুত ঐতিহাসিক রহস্যগুলির মধ্যে একটি। বরফ গললেই কঙ্কাল ভেসে ওঠার দৃশ্য যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতি ও ইতিহাসের অনেক গল্প এখনও অজানা রয়ে গেছে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক