Devlina: নিজের সাথে লড়াই, সেখান থেকে পাওয়া দুঃখ এবং অবশেষে মুক্তি এই সম্পূর্ণ যাত্রা সম্পর্কে লম্বা একটি পোস্ট করলেন অভিনেত্রী দেবলীনা কুমার (Devlina)। আমরা সাধারণত ভাবি তারকা মানেই ঝাঁ চকচকে জীবন। তাদের জীবনে কোনরকম দুঃখ-কষ্ট আসে না। তবে এই বিষয়টি যে সম্পূর্ণ ভুল তা বুঝিয়ে দিয়েছেন বিভিন্ন তারকারা।
মাঝেমধ্যেই মানসিক টানাপোড়নের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তাদের। আর সেখান থেকে কীভাবে তারা বেরিয়ে আসেন সে যাত্রা তুলে ধরেন অকপটে। সেরকমটাই হয়েছে অভিনেত্রীর ক্ষেত্রেও। জীবনে বেশ কিছুদিন অবসাদে ছিলেন তিনি। তবে তা কাটাতে পাড়ি দিয়েছিলেন পাহাড়ে। পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য্যে প্রাণ খুলে কয়েকটা দিন নিঃশ্বাস নিয়েছিলেন তিনি।
আর সেই যাত্রার বর্ণনা দিয়ে লিখেছেন, ‘আমি সেই বিরক্তিকর রকমের আশাবাদী মানুষ, যাকে যদি বলা হয় কাল পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, সেও বলবে, আচ্ছা কিন্তু আজ তো আমাদের হাতে দিনটা আছে তাহলে চলো পান করা যাক? তা সত্ত্বেও, মাঝে মাঝে মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হওয়া থেকে আমিও মুক্ত নই। আমি শুধু সেটাকে লোকদেখানোর পক্ষে নই। কোনো নাটকীয় পোস্ট নয়, সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা নয়, জীবনটা কী ভীষণ অন্যায্য বলে একনাগাড়ে কথা বলাও নয়। এগুলো আমার স্বভাব নয়। এর বদলে আমি উধাও হয়ে যাই।
‘কখনও একা। কখনও আমার ছোট্ট সংস্করণকে সঙ্গে টেনে নিয়ে যাই (ওর ইচ্ছার বিরুদ্ধে, কিন্তু সামান্য ঘুষ দিয়ে, তাই ব্যাপারটা সমান সমান হয়ে যায়)। এবারের ঘটনাটা ছিল কার্তিয়কসুগার ট্রেক। আর সত্যি বলতে? প্রত্যেকটা ট্রেকই যেন নিজের সঙ্গে একটা শান্ত আলাপ, যেখান থেকে আপনি আরেকটু শক্তিশালী হয়ে ফেরেন। কঠিন কাজ আপনি করতে পারবেন, এই ব্যাপারে আরেকটু বেশি নিশ্চিত হয়ে। যে হয়তো শুধু হয়তো বাইরের কোলাহলের চেয়ে আপনার নিজের কাছে আপনার গুরুত্ব আরও বেশি হওয়া উচিত।
‘আমরা প্রায় ৮৫০০ ফুট উচ্চতায় চাগরা পার হয়েছিলাম, টিকে ছিলাম জুসের বিরতি, ম্যাগি, যথেচ্ছ গান আর তার চেয়েও বেশি যথেচ্ছ আলাপচারিতার ওপর ভর করে। আমাদের সাথে আমাদের গাইড ছিলেন, আর ছিলেন রাজা দা এক অচেনা মানুষ যিনি পরে বন্ধু হয়ে গেলেন, কারণ বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সীমানার কোনো ধারণাই আমার নেই। সেখানে গান-বাজনা ছিল। নাচ-গান ছিল। আর ছিল প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি ছবি।’
‘আর ছিল সেই অনুভূতি। আপনারা তো জানেনই। যেখানে জীবনটা নিখুঁত না হলেও, প্রাণবন্ত। আর আমি কতটা দুঃখী, তা নিয়ে পোস্ট করার চেয়ে এই অনুভূতিটাকেই যে কোনো দিন বেছে নেব। কারণ, কখনো কখনো, কষ্ট উগরে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে সেরে ওঠাটা হয় না। কখনো কখনো, এর মানে হলো একটা ব্যাগ গুছিয়ে, পাহাড়ে চড়ে, আর পথের মাঝপথে যাদের সাথে দেখা হলো, তাদের সাথে হাসাহাসি করা। আর সত্যি বলতে, এটুকুই যথেষ্ট।’

Hello, I am SB. I have been working in blogging for more than five years.