আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার মরসুম শুরু হলেই বহু করদাতা দ্রুত রিটার্ন ফাইল করে নিশ্চিন্ত হতে চান। তবে কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার ২০২৬-২৭-এর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ জুলাই ২০২৬ হলেও, অন্তত ১৫ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাধারণত আয়কর দফতরের ই-ফাইলিং পোর্টাল এপ্রিলের শুরু থেকেই চালু হয়ে যায়। কিন্তু সেই সময় সব আর্থিক তথ্য পুরোপুরি আপডেট থাকে না। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক, নিয়োগকারী সংস্থা, মিউচুয়াল ফান্ড সংস্থা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান মে মাসের শেষ পর্যন্ত TDS ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য আপলোড করতে থাকে। এই তথ্যগুলি Form 26AS, AIS (Annual Information Statement) এবং TIS (Taxpayer Information Summary)-এ সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হতে আরও কিছুটা সময় লাগে।
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাঙ্ক বা সংস্থাগুলি পরে সংশোধিত TDS রিটার্ন জমা দেয়। ফলে প্রথম দিকে রিটার্ন ফাইল করলে সুদের আয়, ডিভিডেন্ড, শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ড সংক্রান্ত তথ্য অসম্পূর্ণ থাকতে পারে। এতে আয় কম দেখানো, ভুল TDS ক্রেডিট দাবি করা বা তথ্যের অসঙ্গতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাড়াহুড়ো করে রিটার্ন জমা দিলে করদাতাদের কয়েকটি সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারে। যেমন Form 26AS-এ সমস্ত TDS এন্ট্রি না দেখা যাওয়া, AIS-এ সুদের আয় বা ডিভিডেন্ডের তথ্য অসম্পূর্ণ থাকা, অথবা উচ্চমূল্যের লেনদেনের তথ্য SFT-এ আপডেট না হওয়া। এর ফলে আয়কর দফতরের তরফে নোটিস আসতে পারে কিংবা রিফান্ড পেতেও দেরি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আবার পরে Revised Return জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁদের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, ক্যাপিটাল গেইন হয়েছে, বিদেশি সম্পদ রয়েছে বা বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সামান্য ভুলও ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি করতে পারে।
সাধারণভাবে জুনের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে Form 26AS, AIS, TIS, ব্যাঙ্ক সুদের তথ্য, ডিভিডেন্ড আয়, মিউচুয়াল ফান্ড ও শেয়ার লেনদেনের তথ্য এবং সংশোধিত TDS রিটার্ন সম্পূর্ণভাবে আপডেট হয়ে যায়। তাই সব তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে দেখে তারপর রিটার্ন জমা দেওয়াই নিরাপদ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দ্রুত ITR ফাইল করা অবশ্যই ভালো অভ্যাস। তবে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে রিটার্ন জমা দিলে পরে তার সংশোধন করতে গিয়ে বাড়তি ঝামেলা তৈরি হতে পারে। তাই করদাতাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হল, প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য আপডেট হওয়ার পর সতর্কতার সঙ্গে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.