Vastu: বাস্তুশাস্ত্রে বাড়ির প্রতিটি দিকের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, সঠিক দিকনির্দেশ মেনে বাড়ি তৈরি বা সাজানো হলে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বাড়ে এবং সংসারে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে। পুরাণ অনুযায়ী প্রতিটি দিক কোনও না কোনও দেবতার অধীনে থাকলেও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক, অর্থাৎ নৈঋত কোণকে ঘিরে রয়েছে এক ভিন্ন ধারণা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, এই দিকের অধিপতি হলেন নিঋতি নামে এক রাক্ষস এবং এর সঙ্গে রাহু গ্রহের সম্পর্কও উল্লেখ করা হয়।
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, নৈঋত কোণ বাড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দিক গৃহকর্তার স্থিতি, পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা এবং সদস্যদের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বাড়ির এই অংশ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে শোয়ার ঘর তৈরি করা শুভ বলে মনে করা হয়। এতে পরিবারের কর্তার মানসিক স্থিরতা বৃদ্ধি পায় এবং পারিবারিক সম্পর্কও মজবুত থাকে বলে বিশ্বাস। এছাড়া টাকা, গুরুত্বপূর্ণ নথি বা মূল্যবান সামগ্রী রাখার আলমারিও এই দিকে রাখা যেতে পারে। ভারী আসবাবপত্র রাখার ক্ষেত্রেও এই দিক উপযুক্ত বলে ধরা হয়। অনেকের মতে, ছাদের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে জলের ট্যাঙ্ক বসানোও শুভ ফল দিতে পারে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা দোকানে এই দিকে টাকার বাক্স রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়।

তবে এই দিক ব্যবহারে কিছু নিষেধাজ্ঞার কথাও বলা হয়েছে বাস্তুশাস্ত্রে। দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে জলপ্রবাহের প্রতীক হিসেবে ঝরনা, নদীর ছবি বা কৃত্রিম ফোয়ারা রাখা অশুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অশান্তি বা মতবিরোধ বাড়তে পারে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যাও দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে অনেক বাস্তুবিদ মত প্রকাশ করেন।
*Vastu: সকালে ঘুম থেকে উঠেই আয়নায় চোখ? বাস্তুমতে এই অভ্যাসেই নষ্ট হতে পারে সারাদিন
বাস্তুশাস্ত্র মূলত বিশ্বাস ও প্রাচীন ধারণার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাই অনেকেই বাড়ির নকশা বা সাজসজ্জার ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলি মেনে চললেও, তা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল।
*Vastu: বিয়ে ও অর্থে বাধা, বাড়ির কোন দিকের বাস্তুদোষে? জানুন বিস্তারিত
Disclaimer: এখানে দেওয়া তথ্য জ্যোতিষশাস্ত্রের সাধারণ বিশ্বাস ও তথ্যের উপর ভিত্তি করে লেখা। বাস্তব জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সংবাদ ভবন এটি নিশ্চিৎ করে না।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.