বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়-এর জীবনের নানা ঘটনা আজও দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে তাঁর অল্প বয়সে বিয়ে নিয়ে বহু বছর ধরেই কৌতূহল রয়েছে অনুরাগীদের মধ্যে। পর্দায় ‘বালিকা বধূ’ চরিত্রে অভিনয় করলেও বাস্তব জীবনেও যে খুব কম বয়সে সংসার শুরু করতে হয়েছিল তাঁকে, সেই অভিজ্ঞতার কথা বিভিন্ন সময়ে নিজেই তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।
১৯৬৭ সালে পরিচালক তরুণ মজুমদার-এর ‘বালিকা বধূ’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়জগতে আত্মপ্রকাশ করেন মৌসুমী। ছবিটি মুক্তির পর রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। সেই সময় থেকেই নাকি তাঁর বাড়িতে একের পর এক বিয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু করে। অভিনেত্রীর কথায়, প্রায়ই পাত্রপক্ষের ভিড় লেগে থাকত তাঁদের বাড়ির সামনে।
তখনও স্কুলে পড়াশোনা করছিলেন মৌসুমী। দশম শ্রেণির ছাত্রী অবস্থাতেই তাঁর জীবনে আসে বড় সিদ্ধান্ত। ১৯৭২ সালে তিনি বিয়ে করেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়-এর পুত্র জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়-কে। সেই সময়ে অভিনেত্রীর বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর।
মৌসুমী পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানান, তাঁর এই বিয়ের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর বড়পিসির। অভিনেত্রী ছিলেন পরিবারের অত্যন্ত আদরের মেয়ে। তাঁর সব আবদার, ইচ্ছা ও শখ পূরণ করতেন বড়পিসি। কিন্তু আচমকাই ধরা পড়ে মারণরোগ ক্যানসার। অসুস্থ অবস্থায় বড়পিসির একটাই ইচ্ছা ছিল, জীবদ্দশাতেই প্রিয় ভাইঝির বিয়ে দেখে যাওয়া।
সেই আবেগঘন পরিস্থিতিতেই দ্রুত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মৌসুমীর হবু শ্বশুরের হাত ধরে বড়পিসি নিজের শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন বলেও অভিনেত্রী উল্লেখ করেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয় বিয়ে, আর তারপরই কলকাতা ছেড়ে মুম্বইয়ে পাড়ি দেন তিনি।
নতুন শহরে গিয়ে প্রথমদিকে অচেনা পরিবেশ থাকলেও কখনও নিজেকে একা মনে হয়নি বলে জানিয়েছেন মৌসুমী। তাঁর কথায়, শ্বশুর হেমন্ত মুখোপাধ্যায় তাঁকে মেয়ের মতো আগলে রাখতেন। পরিবারের সকলেই তাঁর স্বাচ্ছন্দ্য ও মানিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিশেষ যত্ন নিতেন। তাই অল্প বয়সে বিয়ে ও নতুন জীবনের চাপ থাকলেও ধীরে ধীরে মুম্বইয়ের জীবনেই নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন অভিনেত্রী।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.