পশ্চিমবঙ্গে বার্ধক্য ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর পথে নতুন রাজ্য সরকার। নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে মাসিক ১০০০ টাকা করে দেওয়া এই দুই ভাতা বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে এই ঘোষণা করা হয়নি, তবে খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা চলছে।
রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্য ভাতা চালু রয়েছে। আগের সরকারের সময় মহিলাদের জন্য ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হত। প্রথমে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১০০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও জনজাতির মহিলারা আরও বেশি আর্থিক সহায়তা পেতেন। পরে নির্বাচনের আগে এই ভাতার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা হয়।
তৎকালীন সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর সুবিধা পাবেন। ৬০ বছর পেরিয়ে গেলে তাঁরা বার্ধক্য ভাতার আওতায় চলে আসবেন। তবে ভাতার পরিমাণ একই থাকবে কি না, তা নিয়ে বহুদিন ধরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ধোঁয়াশা ছিল। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প নিয়ে নতুন পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলতে শুরু করে। নির্বাচনের আগে বিজেপি ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ নামে একটি নতুন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যেখানে মহিলাদের মাসিক ৩০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দেন যে, ইতিমধ্যেই চালু থাকা কোনও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। তবে প্রকৃত উপভোক্তাদের তালিকা যাচাই করা হবে এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া হবে।
এবার বার্ধক্য ও প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের ফলে বহু প্রবীণ এবং বিশেষভাবে সক্ষম মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের দফতর থেকেই এই প্রস্তাব সামনে এসেছে বলে সূত্রের খবর। এখন সকলের নজর সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.