মঙ্গলগ্রহকে আমরা আজ যে রূপে দেখি, অতীতে তা একেবারেই এমন ছিল না। সম্প্রতি ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ESA) বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে লাল গ্রহে ঘটে যাওয়া এক ভয়ংকর বন্যা তার ভূপ্রকৃতিকে আমূল বদলে দিয়েছিল। সংস্থার প্রকাশ করা তথ্য ও ছবিতে উঠে এসেছে সেই প্রাচীন বিপর্যয়ের চাঞ্চল্যকর বিবরণ।
বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গলের মাটির নীচে বিপুল পরিমাণ জল জমে ছিল। কোনও এক সময়ে সেই জল আচমকাই বিস্ফোরণের মতো ফেটে বেরিয়ে আসে। মুহূর্তের মধ্যে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ বন্যা। কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই প্রবল জলস্রোত মঙ্গলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে বদলে দেয়।
এই বন্যার প্রভাবে তৈরি হয় বিশাল উপত্যকা ও জলপথ। গবেষকদের দাবি, প্রায় ৫০০ মিটার গভীর এবং ১০ কিলোমিটার চওড়া একটি উপত্যকার সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে মঙ্গলের শালবাতানা ভালিস অঞ্চলে সেই চিহ্ন এখনও স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
শুধু তাই নয়, ওই বন্যার ফলে প্রায় ১৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি চ্যানেলও তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মঙ্গলের বিষুবরেখার কাছাকাছি এই অঞ্চল দিয়ে একসময় বিপুল জলধারা প্রবাহিত হত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গবেষণায় আরও জানা গিয়েছে, সেই বন্যা এত পরিমাণ পলি ও কাদা বহন করে এনেছিল যে মঙ্গলের বহু নিচু এলাকা ভরাট হয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গলের প্রাচীন ইতিহাসে জলের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল এবং গ্রহটির বর্তমান চেহারা গঠনে সেই জলই ছিল অন্যতম প্রধান কারণ।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মঙ্গলের সবচেয়ে নিচু অঞ্চলে বিভিন্ন দিক থেকে জল এসে জমা হয়েছিল। সেখানে হয়তো একসময় বিশাল কোনও মহাসমুদ্রও ছিল। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে মঙ্গলে প্রাণের সম্ভাবনা এবং গ্রহটির অতীত পরিবেশ নিয়ে নতুন করে গবেষণার পথ খুলে দিতে পারে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.