প্রখর গরমে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে খুব সহজেই। রোদ, ঘাম আর ভ্যাপসা আবহাওয়ায় অনেকেরই খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়। সেই সঙ্গে দেখা দেয় বদহজম, অম্বল কিংবা পেটের নানা সমস্যা। এমন সময়ে টক দই হতে পারে সবচেয়ে উপকারী খাবারগুলির একটি। এটি যেমন শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে, তেমনই হজমশক্তি উন্নত করতেও কার্যকর। তবে প্রতিদিন একই ভাবে দই খেতে খেতে একঘেয়েমি আসাই স্বাভাবিক। তাই স্বাদের বদল আনতে এবার ঘরে তৈরি করে দেখতে পারেন বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় দইয়ের পদ।
ইরানের ‘মাস্ত-ও-খিয়ার’
গরমের দিনে হালকা ও সতেজ খাবার হিসেবে ইরানের এই পদ অত্যন্ত জনপ্রিয়। টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া হয় কুচোনো শসা, আখরোট, কিসমিস এবং সুগন্ধি শাকপাতা। মিষ্টি ও নোনতা স্বাদের সুন্দর মেলবন্ধন এই খাবারকে আলাদা মাত্রা দেয়। দুপুরে হালকা খাবার হিসেবে কিংবা বিকেলের স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবেও এটি দারুণ উপযোগী।

আফগানিস্তানের ‘বোরানি বাঞ্জন’
বেগুনপ্রেমীদের জন্য এই পদ নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। প্রথমে টমেটো ও মশলার সঙ্গে বেগুন রান্না করা হয়। তার উপর ঢেলে দেওয়া হয় রসুন মেশানো ঘন টক দই। মশলাদার স্বাদের সঙ্গে দইয়ের শীতলতা এই খাবারকে করে তোলে অনন্য। গরম ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে সহজেই পরিবেশন করা যায়।
বুলগেরিয়ার ঠান্ডা স্যুপ ‘তারাতর’
এটি মূলত দই দিয়ে তৈরি এক ধরনের ঠান্ডা স্যুপ। টক দইয়ের সঙ্গে শসা, রসুন ও ডিল শাক মিশিয়ে তৈরি হয় এই পদ। প্রচণ্ড গরমে শরীরকে দ্রুত সতেজ করতে বুলগেরিয়ায় এটি খুবই জনপ্রিয়। হালকা হওয়ায় সহজে হজমও হয়।
তুরস্কের ‘আয়রান আশি’
দই, সেদ্ধ ছোলা এবং বিভিন্ন দানাশস্য দিয়ে তৈরি এই স্যুপ পুষ্টিগুণে ভরপুর। ঠান্ডা অবস্থায় পরিবেশন করা হয় বলে গরমের দিনে এটি বিশেষ আরাম দেয়। দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতেও এই খাবার কার্যকর।
দক্ষিণ ভারতের ‘মোর কুঝাম্বু’
বিদেশি পদগুলির পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের এই ঐতিহ্যবাহী দইয়ের তরকারিও সমান জনপ্রিয়। নারকেল, মশলা ও টক দইয়ের মিশেলে তৈরি এই পদে সাধারণত ঢেঁড়স বা চালকুমড়ো ব্যবহার করা হয়। গরম ভাতের সঙ্গে হালকা টক স্বাদের এই রান্না শরীর ও মন— দু’টিকেই শান্ত করে।
গরমকালে সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় টক দই রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা। তাই রোজকার পরিচিত স্বাদের বাইরে বেরিয়ে এই দেশি-বিদেশি পদগুলি একবার চেষ্টা করতেই পারেন। স্বাদ যেমন বদলাবে, তেমনই শরীরও থাকবে অনেকটা সতেজ।