অতিলৌকিক জগতের রহস্য যুগে যুগে মানুষের কৌতূহলের অন্যতম বিষয়। কেউ দাবি করেন, তাঁরা অশরীরী ছায়া দেখেছেন বা অদ্ভুত উপস্থিতি অনুভব করেছেন, আবার কেউ এসবকে সম্পূর্ণ মানসিক বিভ্রম বলে মনে করেন। বৈজ্ঞানিকভাবে এ ধরনের ঘটনার নির্দিষ্ট প্রমাণ না মিললেও জ্যোতিষশাস্ত্র ও বিভিন্ন প্রাচীন শাস্ত্রে এই বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর আত্মা বিভিন্ন অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। জীবদেহে অবস্থানকারী আত্মাকে জীবাত্মা বলা হয়। তবে অসম্পূর্ণ ইচ্ছা, গভীর আসক্তি বা প্রবল ক্ষোভ নিয়ে মৃত্যুবরণ করলে আত্মা প্রেতাত্মার রূপ ধারণ করতে পারে বলে ধারণা রয়েছে। বিশেষ করে অকালমৃত্যু বা দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে সেই আত্মার মুক্তি বিলম্বিত হতে পারে বলেও বহু প্রাচীন গ্রন্থে উল্লেখ আছে।
জ্যোতিষশাস্ত্রের মতে, প্রত্যেক মানুষ সমানভাবে এই ধরনের শক্তি অনুভব করেন না। কারও জন্মছকে রাহু যদি লগ্ন বা অষ্টম স্থানে অবস্থান করে এবং তার ওপর অশুভ গ্রহের প্রভাব থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তি অতিলৌকিক অভিজ্ঞতার প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতে পারেন বলে বিশ্বাস করা হয়। তাঁদের চারপাশে অস্বাভাবিক বা রহস্যময় পরিবেশের অনুভূতি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।

এ ছাড়া জ্যোতিষ মতে, যাঁদের জন্ম তথাকথিত ‘রাক্ষসগণ’-এ, তাঁদের অন্তর্দৃষ্টি বা ষষ্ঠেন্দ্রিয় অপেক্ষাকৃত তীক্ষ্ণ বলে ধরা হয়। ফলে পরিবেশে কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা নেতিবাচক শক্তির উপস্থিতি তাঁরা দ্রুত উপলব্ধি করতে পারেন বলে শাস্ত্রীয় মত।
*Vastu: দাঁড়িয়ে নয়, আসনে বসেই উপাসনা! বাস্তুশাস্ত্র মতে পুজোর সঠিক নিয়ম জানেন তো?
শুধু গ্রহগত অবস্থান নয়, মানসিক অবস্থাকেও এই প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। যাঁরা অত্যন্ত ভীতু, আবেগপ্রবণ বা মানসিকভাবে দুর্বল, তাঁদের মন সহজেই অজানা আশঙ্কার প্রভাব গ্রহণ করতে পারে। অনেক সময় এই মানসিক অবস্থাই নানা অস্বাভাবিক অনুভূতির জন্ম দেয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
*Vastu: সৌভাগ্য নাকি দুর্ভাগ্য— হিরে পরার আগে এই জ্যোতিষীয় নিয়মগুলি জানা জরুরি
কিছু শাস্ত্রীয় বিশ্বাসে আরও বলা হয়, নির্দিষ্ট তিথি বা ধর্মীয় আচারের প্রতি অবহেলা কিংবা রাতের বেলায় নিষিদ্ধ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বাড়তে পারে। যদিও এসব বিশ্বাসের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং এগুলি মূলত ধর্মীয় ও জ্যোতিষীয় মতবাদের ওপর নির্ভরশীল।
তবে বাস্তবে মাঝরাতে হঠাৎ ভয় পাওয়া, ঘরের পরিবেশ অস্বাভাবিক মনে হওয়া বা কারও উপস্থিতির অনুভূতি পাওয়া অনেক সময় মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা বা অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কারণেও ঘটতে পারে। তাই অলৌকিক অভিজ্ঞতা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বাস্তব ও বৈজ্ঞানিক দিকটিও বিবেচনা করা জরুরি।
অতিলৌকিক জগতের অস্তিত্ব নিয়ে মতভেদ থাকলেও, মানুষের কৌতূহল এবং বিশ্বাসের জগতে এই বিষয়টি এখনও সমানভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.