উত্তরবঙ্গে রাতভর ভারী বর্ষণের জেরে পাহাড় এবং সংলগ্ন এলাকায় চরম দুর্ভোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন অংশে প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। টানা বৃষ্টির ফলে উত্তরবঙ্গের একাধিক নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সড়ক যোগাযোগ এবং জনজীবনে।
প্রবল বর্ষণ ও নদীর জলস্ফীতির কারণে দার্জিলিং ও শিলিগুড়ির মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ধস নেমেছে, কোথাও রাস্তার অংশ ভেঙে পড়েছে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আপাতত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
খারসাং থেকে শিলিগুড়িগামী তিন লেনের রাস্তার একটি বড় অংশ ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান সড়কের উপর একটি বিশাল গাছ উপড়ে পড়ায় যান চলাচল আরও ব্যাহত হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ধস সরানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার মেরামতির কাজ শুরু করা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।
অন্যদিকে, বালাসন নদীর প্রবল স্রোতে কার্শিয়াং জেলার দুধিয়ার অস্থায়ী বিকল্প সেতুটিও ভেসে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই নদীর জলস্তর বাড়তে শুরু করেছিল। রাতের দিকে মহানন্দার ফুলবাড়ি ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ার পর বালাসনে জলের চাপ আরও বেড়ে যায়। মধ্যরাতের পর স্রোত এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে হিম পাইপের উপর নির্মিত অস্থায়ী সেতুটি সম্পূর্ণভাবে জলের তলায় চলে যায়।
এর ফলে মিরিক, দুধিয়া এবং শিলিগুড়ির মধ্যে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা রাতভর আতঙ্কে কাটিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত বছরের বর্ষায় দুধিয়ার মূল সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দ্রুত যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে অস্থায়ী এই সেতু তৈরি করা হয়েছিল। তবে খরস্রোতা বালাসন নদীর উপর নির্মিত ওই সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। নতুন বর্ষার শুরুতেই সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। ভারী বৃষ্টি এবং নদীর উন্মত্ত স্রোতে অস্থায়ী সেতুটিও শেষ পর্যন্ত ভেসে গেল।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.