ক্রিকেট মাঠে তাঁর আগ্রাসী মানসিকতা এবং লড়াই করে জেতার প্রবণতার জন্য বরাবরই পরিচিত বিরাট কোহলি। তবে মাঠে নামার আগে তাঁকে অনুপ্রাণিত করে এমন কিছু ব্যক্তিগত বিষয়ও রয়েছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় ক্রিকেটের তারকা ব্যাটার জানিয়েছেন, একটি বিশেষ গান তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তিনি সেই গান শুনতে পছন্দ করেন।
বিরাটের প্রিয় গানটির নাম ‘উইনিং স্পিচ’। এটি জনপ্রিয় গায়ক কর্ণ অজুলার সৃষ্টি। অনুষ্ঠানে কোহলি বলেন, এই গানটি তাঁর কাছে শুধু একটি সঙ্গীত নয়, বরং নিজের জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়ার একটি মাধ্যম। তাঁর কথায়, গানের কথায় শিল্পীর জীবনের সংগ্রাম ও পথচলার যে প্রতিফলন রয়েছে, তা তাঁকে নিজের জীবনের কথাও মনে করিয়ে দেয়।
কোহলি জানান, খুব অল্প বয়সেই তিনি বাবাকে হারিয়েছিলেন। জীবনের সেই কঠিন অভিজ্ঞতার কারণে গানটির আবেগ এবং সংগ্রামের বার্তা তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। তাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামার আগে তিনি ‘উইনিং স্পিচ’ শুনে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছেন।
একই অনুষ্ঠানে নিজের মানসিকতার কথাও তুলে ধরেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। তিনি বলেন, কোনও পরিস্থিতিতেই তিনি সহজে হাল ছাড়েন না। ম্যাচ যত কঠিনই হোক, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা খুঁজে বেড়ান। তাঁর বিশ্বাস, যতক্ষণ সামান্য সুযোগও থাকে, ততক্ষণ লড়াই চালিয়ে যেতে হয়।
এই প্রসঙ্গে কোহলি ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মেলবোর্নের স্মরণীয় ম্যাচটির উদাহরণ দেন। তাঁর মতে, অনেকেই হয়তো ধরে নিয়েছিলেন যে ভারতের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তিনি কখনও সেইভাবে ভাবেননি। তাঁর বিশ্বাস ছিল, সামান্য সুযোগ থাকলেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব।
কোহলির কথায়, ক্রিকেট তাঁকে শিখিয়েছে যে শেষ বল না হওয়া পর্যন্ত কোনও ম্যাচকে হার মেনে নেওয়া উচিত নয়। আর এই ইতিবাচক মনোভাবই বারবার তাঁকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার শক্তি জুগিয়েছে। তাঁর কাছে আশা এবং লড়াই—এই দুটিই একজন ক্রীড়াবিদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
উল্লেখ্য, কর্ণ অজুলা ‘তওবা তওবা’, ‘গ্যাংস্টার’, ‘বচকে বচকে’, ‘বয়ফ্রেন্ড’ এবং ‘ফর আ রিজ়ন’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় গানের জন্য পরিচিত। তবে বিরাট কোহলির কাছে তাঁর ‘উইনিং স্পিচ’ শুধু একটি জনপ্রিয় গান নয়, বরং সংগ্রাম, আবেগ এবং অদম্য মানসিকতার প্রতীক।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.