বর্ষায় পোকামাকড়ের কামড়ে বিপদ বাড়ে, কখন ঘরোয়া পরিচর্যা যথেষ্ট আর কখন জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন?

বর্ষা এলেই চারপাশে নানা ধরনের পোকামাকড়ের সংখ্যা বেড়ে যায়। মশা, ভীমরুল, বোলতা, মাকড়সা, বিছে বা অচেনা বিভিন্ন কীটপতঙ্গের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকিও বাড়ে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দংশনের পর সামান্য ব্যথা বা চুলকানি হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে বিষাক্ত দংশন বা তীব্র অ্যালার্জির কারণে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তাই পোকামাকড় কামড়ানোর পর কী করবেন এবং কোন লক্ষণকে গুরুত্ব দেবেন, তা জানা অত্যন্ত জরুরি।

দংশনের পর প্রথমেই কী করবেন?

পোকামাকড় কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই আক্রান্ত স্থানটি পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে জায়গাটি ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

বর্ষায় পোকামাকড়ের কামড়ে বিপদ বাড়ে, কখন ঘরোয়া পরিচর্যা যথেষ্ট আর কখন জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন?
বর্ষায় পোকামাকড়ের কামড়ে বিপদ বাড়ে, কখন ঘরোয়া পরিচর্যা যথেষ্ট আর কখন জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন?

যদি ব্যথা বা জ্বালাভাব বেশি হয়, তাহলে পরিষ্কার কাপড়ে বরফ জড়িয়ে কয়েক মিনিট ধরে আক্রান্ত স্থানে সেঁক দিতে পারেন। এতে ফোলা ও ব্যথা কিছুটা কমতে পারে।
হালকা জ্বালা বা ত্বকের অস্বস্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিসেপটিক বা ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ ব্যবহার না করাই ভালো।

কোন লক্ষণগুলি অবহেলা করবেন না?

পোকামাকড়ের দংশনের পর সাধারণত আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে যাওয়া, ফোলা বা ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু নিচের উপসর্গগুলির কোনওটি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
*ব্যথা দ্রুত বাড়তে থাকা।
*ফোলাভাব আশপাশে ছড়িয়ে পড়া।
*জ্বর আসা।
*তীব্র অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দেওয়া।
*শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
*ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেওয়া।

ভীমরুল বা বোলতার হুল বিঁধে থাকলে কী করবেন?

ভীমরুল বা বোলতার দংশনের পর অনেক সময় হুল ত্বকের ভিতরে আটকে থাকে। যত দ্রুত সম্ভব সতর্কভাবে সেই হুল সরিয়ে ফেলতে হবে। হুল দীর্ঘক্ষণ থেকে গেলে বিষের প্রভাব ও সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়তে পারে।
এ ছাড়া আক্রান্ত স্থান বারবার চুলকানো বা নখ দিয়ে আঁচড়ানো থেকে বিরত থাকুন। এতে ত্বকে ক্ষত তৈরি হয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

কখন চিকিৎসা প্রয়োজন?

প্রাথমিক পরিচর্যার পরও যদি ব্যথা না কমে, জ্বর আসে, ফোলাভাব বাড়তে থাকে বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে।
চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যালার্জির ওষুধ, অ্যান্টিসেপটিক বা অ্যান্টিবায়োটিক মলম দিতে পারেন। সংক্রমণ বা গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে মুখে খাওয়ার ওষুধও প্রয়োজন হতে পারে। তাই দংশনের পর উপসর্গের দিকে নজর রাখা এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

বর্ষাকালে সতর্ক থাকার সহজ উপায়
*বাইরে গেলে পুরো হাত-পা ঢাকা পোশাক পরুন।
*ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখুন।
*জমে থাকা পানি বা আবর্জনা সরিয়ে ফেলুন।
*পোকামাকড় বেশি থাকে এমন জায়গায় অযথা হাত দেবেন না।
*শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে দংশনের পর লক্ষণ আরও সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।

সঠিক সময়ে প্রাথমিক পরিচর্যা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নিলে পোকামাকড়ের দংশনজনিত অধিকাংশ জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক