ওজন কমানোর পরিকল্পনা শুরু করলেই অনেকেই প্রথমে বাদ দেন ফ্যাটযুক্ত খাবার। বিশেষ করে কাজুবাদামকে অনেকেই ‘মোটা করে’—এমন ধারণা থেকে খাদ্যতালিকা থেকে সরিয়ে দেন। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এই ধারণা সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। বরং পরিমিত পরিমাণে কাজুবাদাম খেলে তা ওজন নিয়ন্ত্রণের ডায়েটের অংশ হতে পারে।
কাজুবাদাম কি সত্যিই ওজন বাড়ায়?
কাজুবাদামে ক্যালোরি ও ফ্যাট থাকলেও, সব ধরনের ফ্যাট শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। এতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর মনো-আনস্যাচুরেটেড এবং পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য উপকারী। সঠিক পরিমাণে খেলে এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কী ভূমিকা?
কাজুবাদামে অল্প পরিমাণ স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকলেও তার সঙ্গে রয়েছে উপকারী ফ্যাট, যা রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে সহায়ক হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে কাজু খেলে সাধারণভাবে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
দিনে কতটি কাজুবাদাম খাওয়া উচিত?
পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে মোট ৬ থেকে ১০টি কাজুবাদাম যথেষ্ট। একবারে না খেয়ে সারাদিনে ভাগ করে খেলে ভালো। এতে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের সম্ভাবনাও কমে।
কী ধরনের কাজুবাদাম খাবেন?
ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে—
*নুন দেওয়া কাজু এড়িয়ে চলুন।
*বেশি তেলে ভাজা কাজুবাদাম না খাওয়াই ভালো।
*সাধারণ বা হালকা শুকনো ভাজা (Dry Roasted) কাজু বেছে নেওয়া বেশি উপকারী।
ডায়েটে কাজুবাদাম রাখার সুবিধা
*দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে।
*স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের চাহিদা পূরণ করে।
*শরীরকে প্রয়োজনীয় খনিজ ও পুষ্টি জোগায়।
*সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
*হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে।
মনে রাখবেন
কাজুবাদাম উপকারী হলেও অতিরিক্ত খেলে ক্যালোরির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। তাই ওজন কমানোর লক্ষ্য থাকলে নির্দিষ্ট পরিমাণ মেনে খাওয়া, সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা বিশেষ খাদ্যনিয়ম থাকলে খাদ্যতালিকায় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.