করোনা মহামারির ভয়াবহ সময় পেরিয়ে গেলেও কোভিড-১৯ যে এখনও পুরোপুরি বিদায় নেয়নি, তারই ইঙ্গিত মিলেছে অন্ধ্রপ্রদেশের কডাপা জেলায়। দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর সেখানে কোভিড-১৯ সংক্রমিত দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকজনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ায় স্বাস্থ্য প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে।
জেলা স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় চারজনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনের উপসর্গ খুবই হালকা হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে বাড়িতেই আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। একজনের শ্বাসকষ্ট থাকায় তাঁকে নির্দিষ্ট কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আক্রান্তরা জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
টিকা নেওয়া থাকলেও কেন সংক্রমণ?

স্বাস্থ্য আধিকারিকদের দাবি, আক্রান্ত প্রত্যেকেই কোভিড টিকার দুটি ডোজ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন বুস্টার ডোজও গ্রহণ করেছিলেন। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, টিকা গুরুতর অসুস্থতা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। তবে সময়ের সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। পাশাপাশি ভাইরাসের নতুন রূপ বা ভ্যারিয়েন্টের কারণে টিকা নেওয়া ব্যক্তিরাও সংক্রমিত হতে পারেন।
মৃতদের শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল?
স্বাস্থ্য সূত্রে জানা গেছে, যাঁদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের দু’জনেরই আগে থেকে একাধিক জটিল শারীরিক সমস্যা ছিল। একজনের বয়স ছিল ৬০ বছর। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পরীক্ষায় কোভিড সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। অপর মৃতের বয়স ৪৩ বছর। তিনিও কোভিডে আক্রান্ত ছিলেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান।
কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?
চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে কোভিডের উপসর্গ তুলনামূলকভাবে মৃদু হলেও কিছু মানুষ এখনও উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, কিডনির অসুখ, সিওপিডি, ক্যানসার, স্থূলতা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে। প্রবীণদেরও অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দফতরের বার্তা
অন্ধ্রপ্রদেশের স্বাস্থ্য দফতরের বক্তব্য, বর্তমানে ব্যাপক হারে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতির প্রমাণ মেলেনি। তাই সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখনও যেসব সতর্কতা জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড প্রতিরোধে পুরনো স্বাস্থ্যবিধিগুলিই এখনও কার্যকর। যেমন—
*নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।
*কাশি বা হাঁচির সময় মুখ-নাক ঢেকে রাখা।
*ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা।
*অসুস্থ হলে জনসমাগম এড়িয়ে চলা।
*শ্বাসকষ্ট, জ্বর বা অন্যান্য উপসর্গ বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
*প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ভিড়ের জায়গায় গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার করা।
আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কোভিড-১৯ এখনও সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি। তবে আগের মতো আতঙ্কের পরিস্থিতি নেই। টিকাকরণ, সচেতনতা, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমেই সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে রাখা সম্ভব। তাই গুজবে কান না দিয়ে সতর্ক থাকা এবং সরকারি স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে চলাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.