ভারতের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রাকে ঘিরে প্রতি বছর ভক্তদের ঢল নামে ওড়িশার পুরীতে। ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই শুরু হবে জগন্নাথদেবের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা। কয়েক দিন ধরে চলা এই উৎসবের শেষ পর্ব ‘বহুদা যাত্রা’ বা উলটোরথ। এই সময় লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও পর্যটক পুরীতে উপস্থিত হন। তাই আগে থেকেই সঠিক পরিকল্পনা করলে যাত্রা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও নিরাপদ হতে পারে।
তিন রথের মহাযাত্রা
পুরীর রথযাত্রার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল তিনটি বিশাল কাঠের রথ। প্রাচীন রীতি ও নির্দিষ্ট আচার মেনে প্রতিবছর নতুন রথ নির্মাণ করা হয়। প্রথমে বলভদ্রের রথ, তার পরে সুভদ্রার রথ এবং সবশেষে জগন্নাথদেবের নন্দীঘোষ রথ গ্র্যান্ড রোড ধরে গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা করে।

রথযাত্রার অন্যতম বিশেষ দিক হল, এই দিন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ দেবদর্শনের সুযোগ পান। যাঁরা মূল মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেন না, তাঁরাও রথযাত্রার সময় দেবতাদের দর্শন করতে পারেন।
ভিড় ও নিরাপত্তার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন
রথযাত্রার সময় পুরীতে কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গ্র্যান্ড রোড ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ থাকতে পারে। নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবহার করা এবং ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশ মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
মন্দিরে প্রবেশের নিয়ম ও কী সঙ্গে নেবেন
জগন্নাথ মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। তবে রথ টানার ক্ষেত্রে সাধারণ ভক্তদের অংশগ্রহণে কোনও বাধা নেই।
জুলাই মাসে পুরীর আবহাওয়া গরম ও আর্দ্র থাকে। তাই হালকা সুতির পোশাক পরা, পর্যাপ্ত জল সঙ্গে রাখা এবং দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া জরুরি।
মন্দির চত্বরে মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, চামড়াজাত সামগ্রীসহ কিছু জিনিস নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকে। তাই এগুলি হোটেল বা নিরাপদ স্থানে রেখে যাওয়াই সুবিধাজনক।
মহাপ্রসাদ ও স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে ভুলবেন না
পুরী ভ্রমণ মহাপ্রসাদ ছাড়া যেন অসম্পূর্ণ। পাশাপাশি স্থানীয় ওড়িয়া খাবারের স্বাদও নেওয়া উচিত। ডালমা, ঘুগনি, বড়া, ছানাপোড়া এবং বিখ্যাত খাজা পর্যটকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়।
আগে থেকেই বুকিং করুন
রথযাত্রার সময় পুরীতে হোটেল, ধর্মশালা ও রিসর্ট দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। তাই শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে আগেই থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ভালো।
পুরী পৌঁছানোর সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ট্রেন। বিমানপথে গেলে ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরে নেমে সড়কপথে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের পুরীতে সহজেই পৌঁছানো যায়।
ভ্রমণের আগে মনে রাখুন
রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভক্তির এক অনন্য মিলনক্ষেত্র। পরিকল্পিতভাবে যাত্রা করলে ভিড় সামলেও নিরাপদ ও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব। আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিলে জগন্নাথধামের এই ঐতিহাসিক উৎসবের স্মৃতি দীর্ঘদিন মনে গেঁথে থাকবে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.