রাহুলের স্মৃতি আজও জীবন্ত, ছেলের ছবি মুক্তির আগে আবেগে ভাসলেন মা শ্যামলী বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি আজও গভীরভাবে অনুভব করে তাঁর পরিবার। বিজয়গড়ের বাড়ির প্রতিটি কোণ যেন এখনও রাহুলের স্মৃতিতে ভরপুর। বাড়ির ড্রয়িংরুমে ঢুকলেই চোখে পড়ে তাঁর প্রিয় সিনেমার বিশাল সংগ্রহ, বইয়ের লাইব্রেরি এবং জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘দাদাগিরি’-তে জেতা পাঁচটি ট্রফি। তবে সেই বাড়িতে আজ আর নেই রাহুলের হাসি কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখার উচ্ছ্বাস। রাহুলের মৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েক মাস। ২৯ মার্চ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানেন না তাঁর মা শ্যামলী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “এই ব্যাপারে সত্যিই কিছু বলতে পারব না। এখনও অপেক্ষা করছি, বিষয়টা জানতে হবে।”

মুক্তি পাচ্ছে রাহুলের শেষ দিকের কাজ
আগামী ২৪ জুলাই মুক্তি পেতে চলেছে ‘ছবিওয়ালা’। ছবির নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবিতে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন দেবলীনা দত্ত-সহ আরও অনেকে। এছাড়াও উজান গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘কাতুকুতু বুড়ো’ ছবিতেও দেখা যাবে তাঁকে। ‘ছবিওয়ালা’-তে বাবা ও ছেলের দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাহুল। শ্যামলী দেবীর মতে, এমন চরিত্র যে কোনও শিল্পীর কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “রাহুল বলত, মানুষের কাছে নিজের নামটাই সবচেয়ে প্রিয়। তাই ওর নাম যত বেশি উচ্চারিত হবে, তত বেশি মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকবে ও।”

মেসির অন্ধভক্ত ছিলেন রাহুল
ফুটবল, বিশেষ করে আর্জেন্টিনা দল এবং লিওনেল মেসির প্রতি রাহুলের ভালোবাসা ছিল অসীম। বিশ্বকাপ শুরু হলেই বন্ধুদের জন্য আর্জেন্টিনার জার্সি কিনে আনতেন তিনি। খেলার দিন বিজয়গড়ের বাড়িতে জমে উঠত আড্ডা, উল্লাস আর উৎসবের আবহ। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শ্যামলী দেবী। তিনি বলেন, “ও মেসির অন্ধভক্ত ছিল। বন্ধুদের নিয়ে এই ঘরেই খেলা দেখত। ম্যাচ জিতলে সবাই মিলে বেরিয়ে পড়ত আনন্দ করতে। আবার মেসি বিশ্বকাপ আর খেলবে না—এই ভেবেও খুব কষ্ট পেত।” এ বছর অবশ্য রাহুলের বন্ধুরা একসঙ্গে খেলা দেখেননি। তাঁর অনুপস্থিতির যন্ত্রণা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তাঁরা।

ছেলের ছবি দেখা এখনও কঠিন মায়ের কাছে
রাহুলের অভিনীত ছবি এখনও পুরোটা দেখতে পারেন না তাঁর মা। সম্প্রতি রাহুলের নাট্যদলের একটি ছবি দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মন ভরে ওঠেনি, বরং আরও ভারী হয়েছে। শ্যামলী দেবী বলেন, “ওর পডকাস্ট বা ছবির কিছু অংশ হয়তো দেখি, কিন্তু পুরোটা দেখতে পারি না। বিশেষ করে যদি মৃত্যু-দৃশ্য থাকে, তাহলে সেটা আমার পক্ষে খুব কঠিন।”

সমালোচনার জবাবে কী বললেন শ্যামলী দেবী?
রাহুলের নাম এবং কাজকে সামনে এনে অনেকেই তাঁকে স্মরণ করছেন। যদিও সামাজিক মাধ্যমে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়াও দেখা গিয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ তুলেছেন, অভিনেতার মৃত্যুকে ব্যবহার করে প্রচার করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে শ্যামলী দেবীর বক্তব্য, “এটা সম্পূর্ণ মানসিকতার ব্যাপার। রাহুলের বন্ধু, সহকর্মী এবং যাঁরা ওকে ভালোবাসতেন, তাঁরা ওর কথা বলছেন ভালোবেসেই। আমি এটাকে ইতিবাচকভাবেই দেখি। ওর নাম উচ্চারিত হচ্ছে, মানুষ ওকে মনে রাখছে—এর মধ্যে খারাপ কিছু দেখি না।”

স্মৃতির বাড়িতে এখনও রয়ে গিয়েছে রাহুল
রাহুলের চলে যাওয়ার পর মনমরা হয়ে পড়েছিল তাঁর প্রিয় পোষ্য কুট্টুসও। সময়ের সঙ্গে কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বাড়ির প্রতিটি মানুষ আজও অনুভব করেন অভিনেতার শূন্যতা। রাত গভীর হলে বিজয়গড়ের সেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার সময় চোখে পড়ে নেমপ্লেট—‘রাহুল-প্রিয়াঙ্কা’। সেই নামফলক যেন আজও মনে করিয়ে দেয়, মানুষ চলে গেলেও তাঁর স্মৃতি, ভালোবাসা এবং কাজ চিরকাল বেঁচে থাকে।

Arijit Singh: অবসর কাটিয়ে ফের প্লেব্যাকে অরিজিৎ সিং! কোন ছবিতে গান গাইছেন জনপ্রিয় গায়ক?

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক