নীচু হতে গেলেই হাঁটুতে ব্যথা? অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের লক্ষণ নয় তো? কী ভাবে বুঝবেন

নীচু হয়ে কিছু তুলতে গেলেই হাঁটুতে ব্যথা? সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার সময় হাঁটুতে টান বা যন্ত্রণা অনুভব করছেন? অনেকেই এই ধরনের সমস্যাকে বয়সজনিত সাধারণ ব্যথা বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু বার বার এমন হলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ, হাঁটুর এমন ব্যথা অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে।
অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসে হাঁটুর জয়েন্টের কার্টিলেজ ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে থাকে। ফলে হাঁটাচলা, বসা-ওঠা বা হাঁটু ভাঁজ করার সময় ব্যথা ও অস্বস্তি হতে পারে। তবে হাঁটুতে ব্যথা হলেই যে অস্টিয়োআর্থ্রাইটিস হয়েছে, এমনটা নয়। কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা যায়।

অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের লক্ষণ কী কী?

হাঁটুতে ব্যথা: নীচু হওয়া, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা কিংবা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর উঠে দাঁড়ানোর সময় হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। শুরুতে ব্যথা সহনীয় থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা বাড়তে পারে।

জড়তা ও শক্তভাব: সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অথবা দীর্ঘক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পরে হাঁটু শক্ত বা জমাট মনে হতে পারে। সাধারণত কিছুক্ষণ নড়াচড়া করার পর এই জড়তা কমে আসে।

হাঁটুতে মচমচ বা কটকট শব্দ: হাঁটু ভাঁজ বা সোজা করার সময় জয়েন্টে শব্দ হতে পারে। তবে শুধু শব্দ হওয়াই অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের নিশ্চিত প্রমাণ নয়; অন্যান্য লক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে বিষয়টি দেখা প্রয়োজন।

ফোলা ও স্পর্শকাতরতা: হাঁটুর জয়েন্টের চারপাশে হালকা ফোলা দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত জায়গায় চাপ দিলে ব্যথা বা অস্বস্তিও হতে পারে।

হাঁটুর নড়াচড়া কমে যাওয়া: হাঁটু আগের মতো পুরোপুরি ভাঁজ করা বা সোজা করতে অসুবিধা হতে পারে। দৈনন্দিন কাজেও ধীরে ধীরে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

অন্য ব্যথার সঙ্গে পার্থক্য কী?

পেশিতে টান, অতিরিক্ত পরিশ্রম বা সামান্য আঘাতের কারণে হাঁটুতে ব্যথা হলে সাধারণত বিশ্রাম নেওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যে তা কমে যায়। কিন্তু অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে ব্যথা সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
তবে শুধু উপসর্গ দেখে নিজে থেকে অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। হাঁটুর ব্যথার আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।

হাঁটুতে ব্যথা হলে কী করবেন?

চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: উপরোক্ত একাধিক লক্ষণ দেখা দিলে অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার কারণ নির্ণয় করা হয়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর জয়েন্টের উপর চাপ বাড়াতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা হাঁটুর যত্নে গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা ব্যায়াম, হাঁটুর চারপাশের পেশি শক্ত করার অনুশীলন বা ফিজিওথেরাপি করা যেতে পারে। তবে ব্যথা বাড়ে এমন ব্যায়াম নিজে থেকে শুরু করবেন না।

শুধু কোলেস্টেরল নয়, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বুঝতে কাজে আসতে পারে এই ৯ রক্তপরীক্ষা

হাঁটুতে বার বার ব্যথা হলে বয়সের স্বাভাবিক সমস্যা ভেবে চুপ করে না থেকে কারণটি জানা জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা ও জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করলে হাঁটুর সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিক রাখা অনেকটাই সম্ভব।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক