নিয়মিত খাওয়া ওষুধ কেনার সময় একটু অসতর্কতাও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। বাজারে অনুমোদনহীন, নিম্নমানের বা নকল ওষুধের উপস্থিতির অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। বিশেষ করে সুগার, প্রেশার বা অন্য কোনও দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ নিয়মিত খেতে হলে ওষুধটি আসল কি না, তার প্যাকেট ঠিক আছে কি না এবং মেয়াদ রয়েছে কি না—এসব যাচাই করা জরুরি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-ও নকল বা ভেজাল ওষুধের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়। ভুল বা নকল ওষুধে প্রয়োজনীয় উপাদান না-ও থাকতে পারে, আবার ক্ষতিকর উপাদান থাকার আশঙ্কাও থাকে। তাই দোকান থেকে হোক বা অনলাইনে, ওষুধ কেনার সময় কয়েকটি বিষয় অবশ্যই দেখে নিন।
প্যাকেট ও স্ট্রিপ ভালো করে পরীক্ষা করুন
ওষুধের প্যাকেট বা স্ট্রিপে লেখা নাম, বানান, ফন্ট এবং অন্যান্য তথ্য স্পষ্ট কি না দেখে নিন। ঝাপসা লেখা, বানান ভুল, অস্বাভাবিক ফন্ট বা ছাপার মানে অসঙ্গতি থাকলে সতর্ক হওয়া উচিত।
প্রস্তুতকারক সংস্থার লোগো, প্যাকেটের রং এবং ডিজাইনও খেয়াল করুন। একই ওষুধ আগে কিনে থাকলে পুরনো প্যাকেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারেন। প্যাকেট ছেঁড়া, ফয়েল আলগা বা সিল поврежস্ত হলে সেই ওষুধ না কেনাই ভালো।
ব্যাচ নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ দেখুন
ওষুধের প্যাকেটে ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে কি না নিশ্চিত করুন। কোনও তথ্য অস্পষ্ট, ঘষা বা মুছে যাওয়ার মতো দেখালে ওষুধটি না নেওয়াই নিরাপদ।
কিছু ওষুধের প্যাকেটে বারকোড বা QR কোড থাকতে পারে। সম্ভব হলে স্মার্টফোনে স্ক্যান করে প্রস্তুতকারক সংস্থা এবং পণ্যের তথ্য যাচাই করে নিন।
ট্যাবলেট বা ক্যাপসুলের চেহারা দেখুন
ট্যাবলেট বা ক্যাপসুলের রং, আকৃতি কিংবা আকার আগের ওষুধের তুলনায় অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে কি না খেয়াল করুন। ট্যাবলেট গুঁড়ো হয়ে যাওয়া, ফেটে যাওয়া, অস্বাভাবিক নরম হয়ে যাওয়া বা রঙে বড় পরিবর্তন দেখা গেলে তা ব্যবহার করার আগে ফার্মাসিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
তরল ওষুধের ক্ষেত্রেও বোতলের ভিতরের তরল স্বাভাবিক দেখাচ্ছে কি না পরীক্ষা করুন। অস্বাভাবিক তলানি, রং বা গন্ধ চোখে পড়লে সেটি ব্যবহার না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রস্তুতকারকের তথ্য মিলিয়ে নিন
ওষুধের প্যাকেটে প্রস্তুতকারক সংস্থার নাম ও ঠিকানা সঠিকভাবে লেখা আছে কি না দেখুন। কোনও তথ্য অসম্পূর্ণ বা সন্দেহজনক মনে হলে ওষুধটি কেনার আগে যাচাই করে নিন।
ওষুধের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত তথ্য নিয়েও সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যেতে পারে।
অস্বাভাবিক দাম দেখলে সতর্ক হন
বাজারদরের তুলনায় কোনও ওষুধ অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রি হলে শুধু সস্তা দেখে কিনবেন না। আবার নির্ধারিত দামের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি দাম নেওয়া হলেও কারণ জানতে চান। প্রয়োজনে অন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মেসিতে দাম ও পণ্যের তথ্য মিলিয়ে নিন।
ওষুধ কেনার পর রসিদ অবশ্যই রাখুন
ওষুধ কেনার পর বিল বা রসিদ সংগ্রহ করুন। সম্ভব হলে রসিদে ওষুধের নাম, ব্যাচ নম্বর, পরিমাণ ও মেয়াদের তথ্য রয়েছে কি না দেখে নিন। পরে ওষুধ নিয়ে কোনও সমস্যা হলে এই রসিদ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে।
সন্দেহ হলে কী করবেন?
ওষুধের প্যাকেট, স্ট্রিপ, ট্যাবলেট বা সিরাপ দেখে সন্দেহ হলে নিজের মতো করে ওষুধটি খাওয়া শুরু বা বন্ধ করবেন না। চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট বা সংশ্লিষ্ট ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে সুগার, প্রেশার বা অন্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করাও বিপজ্জনক হতে পারে।
জ্বর-সর্দির সময়ে আরাম দিতে পারে ৩ পানীয়, বর্ষায় ঘরেই বানিয়ে নিন
সুতরাং, ওষুধ কেনার সময় শুধু নাম ও দাম দেখলেই হবে না। প্যাকেট, সিল, ব্যাচ নম্বর, মেয়াদ, প্রস্তুতকারকের তথ্য এবং রসিদ—সবকিছু যাচাই করে তবেই ওষুধ কেনা উচিত।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.