বন্ধুত্ব জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। সুখের সময়ে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া থেকে শুরু করে বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানো—একজন ভালো বন্ধু জীবনের কঠিন সময় অনেকটাই সহজ করে দিতে পারেন। জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত এক ধারণা অনুযায়ী, জন্মমাসের ভিত্তিতেও নাকি দুই মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের সামঞ্জস্য সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।
অবশ্যই এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কোনও নিয়ম নয়। জন্মমাসের পাশাপাশি মানুষের স্বভাব, মূল্যবোধ, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও পরিস্থিতিই বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে জ্যোতিষের প্রচলিত ধারণায় কোন কোন জন্মমাসের জুটিকে বন্ধুত্বের জন্য মানানসই বলা হয়, দেখে নেওয়া যাক।
১. জানুয়ারি + অক্টোবর
জানুয়ারি মাসে জন্মগ্রহণকারীদের মধ্যে দায়িত্ব নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায় বলে জ্যোতিষের প্রচলিত ধারণা। কর্মক্ষেত্র হোক বা ব্যক্তিগত জীবন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা এগিয়ে আসতে পারেন।
অন্যদিকে অক্টোবরের জাতকদের সাধারণত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক বিচার-বিশ্লেষণ করার প্রবণতা রয়েছে বলে মনে করা হয়। ফলে এই দুই ধরনের স্বভাব একে অপরের পরিপূরক হতে পারে।
একজন পরিকল্পনা তৈরিতে সাহায্য করেন, অন্যজন সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে আসেন। তাই এই দুই জন্মমাসের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠলে তা দুজনের জন্যই কার্যকর হতে পারে।
২. মার্চ + নভেম্বর
মার্চ মাসে জন্মানো ব্যক্তিদের তুলনামূলক শান্ত ও অন্তর্মুখী স্বভাবের বলে মনে করা হয়। অন্যদিকে নভেম্বরের জাতকেরা মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে এবং সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলতে পছন্দ করেন—এমনটাই প্রচলিত জ্যোতিষীয় ধারণা।
নভেম্বরের বন্ধু মার্চের জাতকের মনের কথা না বললেও বুঝে নিতে পারেন বলে মনে করা হয়। ফলে ব্যক্তিগত সমস্যা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভবিষ্যতের স্বপ্ন কিংবা ছোটখাটো আনন্দ—সবকিছু নিয়েই সহজে আলোচনা হতে পারে।
এই পারস্পরিক বোঝাপড়াই সময়ের সঙ্গে বন্ধুত্বকে আরও গভীর করে তুলতে পারে।
৩. এপ্রিল + ডিসেম্বর
এপ্রিল ও ডিসেম্বর মাসে জন্মানো ব্যক্তিদের বন্ধুত্বকে জ্যোতিষের প্রচলিত ধারণায় বেশ প্রাণবন্ত বলে মনে করা হয়। দুজনের মধ্যে একে অপরকে উৎসাহ ও সাহস দেওয়ার প্রবণতা থাকতে পারে।
হঠাৎ কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা, নতুন কোনও রেস্তরাঁয় খেতে যাওয়া কিংবা শেষ মুহূর্তে কোনও প্ল্যান তৈরি—এই ধরনের স্বতঃস্ফূর্ত মুহূর্ত এই বন্ধুত্বকে আরও আনন্দময় করে তুলতে পারে।
দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে এই জুটি একে অপরের ভালো সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে।
৪. মে + জুলাই
মে ও জুলাই মাসে জন্মানো ব্যক্তিদের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে পারিবারিক সম্পর্কের মতো ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠতে পারে বলে জ্যোতিষের প্রচলিত ধারণা।
একে অপরের বাড়িতে যাতায়াত, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরিচয়, একসঙ্গে উৎসব কাটানো—সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুত্বের পরিধি আরও বাড়তে পারে। এমনকি সবসময় নতুন কোনও পরিকল্পনা করারও প্রয়োজন হয় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাশাপাশি বসে গল্প করাই হয়ে উঠতে পারে আনন্দের বিষয়।
জীবনে পরিবর্তন এলেও পারস্পরিক টান ও বোঝাপড়ার কারণে এই বন্ধুত্ব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে মনে করা হয়।
Vastu: কেবল দেবশিল্পী নন, বাস্তুর আদিপুরুষও বিশ্বকর্মা!পুজোর দিন পালন করুন ৫ টোটকা
শেষ কথা
জন্মমাসের ভিত্তিতে বন্ধুত্বের এমন মিলের কথা জ্যোতিষশাস্ত্রে বলা হলেও, কোনও নির্দিষ্ট মাসে জন্মালেই বন্ধুত্ব অটুট থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। মানুষের ব্যক্তিত্ব, পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস, যোগাযোগ এবং কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থাকার মানসিকতাই একটি বন্ধুত্বকে দীর্ঘস্থায়ী করে।
তাই জন্মমাসের এই মিলকে নিছক জ্যোতিষীয় ধারণা হিসেবেই দেখা ভালো। বন্ধুত্বের আসল শক্তি তৈরি হয় দুজন মানুষের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বিশ্বাস থেকেই।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.