ট্রেন চলাচলের জন্য যেমন বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, তেমনই এবার ট্রেন চলার সময় রেললাইনে তৈরি হওয়া কম্পন থেকেই উৎপাদন করা সম্ভব হবে বিদ্যুৎ। রেললাইনের এই যান্ত্রিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ তৈরির নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন গবেষকরা। তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেললাইনের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত ছোট সেন্সর চালানো যেতে পারে। ফলে সেগুলির জন্য আলাদা বিদ্যুৎ সংযোগ বা নিয়মিত ব্যাটারি বদলের প্রয়োজন কমতে পারে।
কীভাবে তৈরি হবে বিদ্যুৎ?
ভারী ট্রেন রেললাইনের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় লাইনে স্বাভাবিকভাবেই কম্পন ও নড়াচড়া তৈরি হয়। নতুন প্রযুক্তিতে সেই কম্পনকেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হবে।
এই ব্যবস্থায় মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রয়েছে। প্রথমে একটি বিশেষ যান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে রেললাইনের কম্পনকে ঘূর্ণনগতিতে রূপান্তর করা হবে। এরপর সেই ঘূর্ণন ব্যবহার করে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। সবশেষে উৎপন্ন বিদ্যুৎকে রেক্টিফিকেশন ও ফিল্টারিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য করে সংরক্ষণ করা হবে।
প্রযুক্তিটিতে সিজর-লিঙ্কেজ ও স্লাইডার মেকানিজম ব্যবহার করে রেললাইনের কম্পনকে একমুখী ঘূর্ণনগতিতে পরিবর্তন করা হয়। সেই ঘূর্ণন কাজে লাগিয়ে থ্রি-ফেজ জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। পরে উৎপন্ন শক্তি ছোট ইলেকট্রনিক যন্ত্র বা সেন্সর চালানোর কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
সর্বোচ্চ ৭.৮৮ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের দাবি
পরীক্ষামূলক ফলাফল অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৭.৮৮ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। পরীক্ষায় এর কার্যকারিতা বা দক্ষতা ছিল প্রায় ৭৩.৩৮ শতাংশ। তবে সর্বোচ্চ ৭.৮৮ ওয়াট উৎপাদনের অর্থ এই নয় যে প্রতিটি ট্রেন চলাচলের সময় একই পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। ট্রেনের ওজন, গতি, রেললাইনের কম্পনের মাত্রা এবং অন্যান্য পরিস্থিতির উপর উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ নির্ভর করতে পারে।
রেললাইনের নিরাপত্তায় মিলতে পারে নতুন সুবিধা
ভারতের বিশাল রেল নেটওয়ার্কে হাজার হাজার কিলোমিটার রেললাইন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহার করা গেলে রেললাইনের বিভিন্ন অংশে ছোট সেন্সর বসিয়ে সেগুলিকে দীর্ঘ সময় চালানো সম্ভব হতে পারে।
এর ফলে রেললাইনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ, সম্ভাব্য সমস্যা শনাক্তকরণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ভারতের বিস্তৃত রেল নেটওয়ার্কে এই প্রযুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে, তা নির্ভর করবে আরও পরীক্ষা ও বাস্তব প্রয়োগের ফলাফলের উপর।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.