বিগ বসের ঘরে দুর্নিবারের সঙ্গে তুমুল ঝামেলা! ক্যাপ্টেনসি জিতেও অঝোরে কাঁদলেন নিরঞ্জন

বিগ বস বাংলার ঘরে ফের উত্তেজনার পারদ চড়ল ক্যাপ্টেনসি টাস্ককে কেন্দ্র করে। বৃহস্পতিবারের পর্বে রেসলিং রিংয়ে প্রতিযোগীদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই থেকে শুরু করে সঞ্চালক দুর্নিবার সাহার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, সব মিলিয়ে জমজমাট হয়ে উঠেছিল খেলা। এমনকী, ক্যাপ্টেনসি টাস্কে জয়ী হয়েও শেষ পর্যন্ত কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেল নিরঞ্জন মণ্ডলকে। কিন্তু কী এমন ঘটেছিল, যার জেরে ক্যাপ্টেন হওয়ার আনন্দও ম্লান হয়ে গেল তাঁর?

রেসলিং রিংয়ে পাঁচ প্রতিযোগীর লড়াই

বৃহস্পতিবার বিগ বস বাংলার গার্ডেন এরিয়ায় ক্যাপ্টেনসি টাস্কের জন্য তৈরি করা হয়েছিল একটি বিশেষ রেসলিং রিং। প্রতিযোগীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে রিংয়ের চারপাশে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল ক্র্যাশ ম্যাট। নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ প্রতিযোগীকে গ্লাভস পরে একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে রিংয়ের বাইরে বের করে দিতে হবে। কোনও প্রতিযোগী তিনবার ক্র্যাশ ম্যাটের উপর পড়ে গেলেই তাঁকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়তে হবে। এই টাস্কে অংশ নিয়েছিলেন নিরঞ্জন মণ্ডল, তনুশ্রী, সৃজলা গুহ, সোনামণি সাহা এবং রাজবীর দে। অন্যদিকে, সঞ্চালক দুর্নিবার সাহার নজর ছিল খেলার প্রতিটি রাউন্ডের উপর।

ডাক্তারের বারণ সত্ত্বেও খেলতে নামলেন সৃজলা!

টাস্ক শুরুর আগেই ঘটে যায় একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা। বিগ বসের তরফে সৃজলাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে চিকিৎসক তাঁকে এই টাস্কে অংশ নিতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু তাতে দমে যাননি অভিনেত্রী। নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে সৃজলা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি নিজের দায়িত্বেই এই খেলায় অংশ নিতে চান। এরপর শুরু হয় প্রতিযোগিতা। তবে লড়াইয়ের প্রথম দিকেই চোট পেয়ে পিছিয়ে যেতে হয় তনুশ্রীকে। অন্যদিকে, বাকিদের সম্মিলিত আক্রমণের মুখে রিং থেকে ছিটকে যান রাজবীর। চিকিৎসকের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লড়াইয়ে নামলেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেননি সৃজলাও। ফলে মূল লড়াই গিয়ে দাঁড়ায় নিরঞ্জন ও সোনামণির মধ্যে।

দুর্নিবারের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ নিরঞ্জন, বাদ পড়লেন টাস্ক থেকে!

নিরঞ্জন ও সোনামণির লড়াই চলাকালীনই পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। সঞ্চালক দুর্নিবার সাহার একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে আপত্তি জানান নিরঞ্জন। ক্রমশ বাড়তে থাকে উত্তেজনা। একসময় মেজাজ হারিয়ে দুর্নিবারকে গালিগালাজ করে বসেন নিরঞ্জন। এরপরই কড়া পদক্ষেপ করেন সঞ্চালক। নিরঞ্জনকে সরাসরি ডিসকোয়ালিফায়েড ঘোষণা করে সোনামণিকে একতরফাভাবে ক্যাপ্টেন হিসেবে বেছে নেন তিনি। দুর্নিবারের এই সিদ্ধান্তে বিগ বসের ঘরে শুরু হয় তীব্র অসন্তোষ। বাড়ির একাধিক প্রতিযোগী এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। এমনকী, সোনামণি নিজেও এইভাবে পাওয়া ক্যাপ্টেনসি নিতে রাজি হননি। নিরঞ্জনকে আবার খেলায় ফেরানোর জন্য আবেদন জানান তিনি। কিন্তু দুর্নিবার নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিরঞ্জন ক্ষমা চাইলেই ফের শুরু হতে পারে খেলা।

শেষমেশ ক্ষমা চেয়ে লড়াইয়ে ফিরলেন নিরঞ্জন

পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত দুর্নিবারের কাছে ক্ষমা চান নিরঞ্জন। এরপর ফের শুরু হয় ক্যাপ্টেনসি টাস্কের লড়াই। এবার আর সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি। সোনামণিকে পিছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত বিগ বস বাংলার নতুন ক্যাপ্টেন হয়ে ওঠেন নিরঞ্জন মণ্ডল। তবে ক্যাপ্টেন হওয়ার পরেও তাঁর মুখে ছিল না জয়ের স্বাভাবিক উচ্ছ্বাস। বরং গোটা ঘটনার জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। টাস্ক চলাকালীন দুর্নিবারের আচরণ এবং সকলের সামনে অপমানিত হওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলেন না নিরঞ্জন। সেই অভিমান ও ক্ষোভই যেন শেষ পর্যন্ত চোখের জলে বেরিয়ে আসে।

‘আমার সম্পত্তি ১২ মণ কাঠ’, নিজের শেষকৃত্য নিয়ে আগেই সব গুছিয়ে রেখেছিলেন নানা পাটেকর
‘আমার সম্পত্তি ১২ মণ কাঠ’, নিজের শেষকৃত্য নিয়ে আগেই সব গুছিয়ে রেখেছিলেন নানা পাটেকর

ক্যাপ্টেনসি জিতেও কেন কান্নায় ভাঙলেন নিরঞ্জন?

ক্যাপ্টেন হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলেও টাস্ক চলাকালীন ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনা নিরঞ্জনের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। প্রতিযোগিতায় জয় পেলেও প্রকাশ্যে অপমানিত হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে কষ্ট দেয়। তাই জয়ের আনন্দের বদলে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় তাঁকে। সব মিলিয়ে, সৃজলার জেদ, নিরঞ্জন ও দুর্নিবারের সংঘাত এবং সোনামণির অবস্থান—বৃহস্পতিবারের পর্বে একের পর এক ঘটনায় সরগরম হয়ে ওঠে বিগ বস বাংলার ঘর। আগামী দিনে এই ঘটনার প্রভাব প্রতিযোগীদের পারস্পরিক সম্পর্কে কতটা পড়ে, এখন সেটাই দেখার।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক