‘স্কুল থেকে বাড়ি ফিরলেই…’! প্রয়াত মায়ের হাতের কোন রান্নার স্বাদ আজও ভুলতে পারেননি ইমন?

মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ কি কখনও ভোলা যায়? বয়স যতই বাড়ুক না কেন, ছোটবেলায় মায়ের হাতে খাওয়া সাধারণ খাবারও থেকে যায় স্মৃতির পাতায়। সেই স্মৃতিই সম্প্রতি উসকে দিল সোনি আটের নতুন নন-ফিকশন শো ‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’। মায়ের হাতের রান্নার প্রসঙ্গ উঠতেই প্রয়াত মায়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন গায়িকা ইমন চক্রবর্তী। জানালেন, স্কুল থেকে বাড়ি ফিরলে মা তাঁকে যে খাবার মেখে খাওয়াতেন, আজও সেই স্বাদ ভীষণভাবে মিস করেন তিনি।

সোনি আটে শুরু হয়েছে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’। শোয়ের একটি পর্বে প্রতিযোগীদের মধ্যে আলোচনা হয় মায়ের হাতের রান্না নিয়ে। সেই সময় নিজের ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করেন ইমন চক্রবর্তী। গায়িকা জানান, স্কুল থেকে বাড়ি ফিরলেই তাঁর জন্য খাবার মেখে দিতেন মা। ইমনের কথায়, ডাল সেদ্ধ, আলু সেদ্ধ ও ডিম সেদ্ধ দিয়ে ভাত মেখে, তার সঙ্গে একটু ঘি আর লঙ্কা—এই ছিল তাঁর ছোটবেলার প্রিয় খাবার। মা নিজের হাতে সেই খাবার মেখে তাঁকে খাইয়ে দিতেন। সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়ে তৈরি এই খাবারের মধ্যেই মিশে ছিল মায়ের স্নেহ আর ভালোবাসা। আজ মা পাশে না থাকলেও সেই খাবারের স্মৃতি এখনও তাঁর মনে অমলিন।

মায়ের রান্নার স্মৃতিতে আবেগপ্রবণ কাঞ্চনও

শুধু ইমন নন, মায়ের হাতের রান্নার প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকও। তাঁর মতে, বয়স যতই হোক না কেন, মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ সব সময়ই আলাদা। ছোটবেলায় তাঁদের বাড়িতে আমিষ খাবারের খুব বেশি আয়োজন থাকত না। ইলিশের মতো মাছও নিয়মিত খাওয়া হতো না। তবে রান্নার ক্ষেত্রে তাঁর মায়ের দক্ষতা ছিল অসাধারণ। কাঞ্চন জানান, পুকুরের ধার থেকে একটি কচুগাছ তুলে আনলেও তা দিয়ে পাঁচ রকম পদ রান্না করা সম্ভব বলে মনে করতেন তাঁর মা। সাধারণ উপকরণ দিয়েও কীভাবে সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যায়, তা মায়ের কাছ থেকেই শিখেছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, কাঞ্চন মল্লিকের মা শুভা মল্লিক ২০২০ সালের ৪ জুলাই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে প্রয়াত হন। মাকে হারানোর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শুটিং ফ্লোরে ফিরে গিয়েছিলেন অভিনেতা। এক সাক্ষাৎকারে নিজেই জানিয়েছিলেন সেই কঠিন সময়ের কথা।

মায়ের রান্না নিয়ে ভুল বুঝতে পেরে অনুশোচনা অন্বেষার

মায়ের রান্নার প্রসঙ্গে নিজের ভুলের কথাও স্বীকার করেন অভিনেত্রী অন্বেষা হাজরা। বাড়িতে মায়ের হাতে তৈরি আলুভাজায় নুন কম হওয়ায় একসময় অভিযোগ করেছিলেন তিনি। কিন্তু নিজে রান্না করতে গিয়ে মায়ের পরিশ্রমের গুরুত্ব বুঝতে পারেন অভিনেত্রী। অন্বেষা জানান, তাঁর মা-বাবা দুজনেই ভালো রান্না করেন। তবে বাড়িতে নিয়মিত রান্নার দায়িত্ব মূলত তাঁর মায়ের উপরেই থাকে। সম্প্রতি আলুভাজা রান্না করতে গিয়ে কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়িয়ে থেকেই কোমরে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। তখনই উপলব্ধি করেন, প্রতিদিন রান্না করা কতটা পরিশ্রমের কাজ। তাই এখন নুন কম হোক বা অন্য কোনও খুঁত থাকুক, মায়ের রান্না নিয়ে অভিযোগ করার আগে দু’বার ভাবতে চান অভিনেত্রী। তাঁর উপলব্ধি, খাবারে সামান্য ত্রুটি থাকলেও মায়ের হাতের রান্নার মূল্য অনেক বেশি।

‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’ কি অন্য শোয়ের অনুকরণ?

শোয়ের প্রোমো প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’ নিয়ে দর্শকদের একাংশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই অনুষ্ঠানটির সঙ্গে কালার্সের জনপ্রিয় শো ‘লাফটার শেফস’-এর মিল খুঁজে পান। এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল শোয়ের নির্মাতাদের কাছেও। প্রেস কনফারেন্সে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। তিনি জানান, দর্শকরা এই শোয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ভাষার অনুষ্ঠানের মিল খুঁজে পেতে পারেন। তবে তাঁর বক্তব্য, ‘ওয়াসপ কুক অফ আমেরিকা’ নামের একটি শোয়ের কপিরাইট নিয়ে অনুষ্ঠানটি তৈরি করা হয়েছে।

২৭-এ ব্রেন টিউমার! জীবনের কঠিন সময়ের কথা জানালেন সাবা
২৭-এ ব্রেন টিউমার! জীবনের কঠিন সময়ের কথা জানালেন সাবা

রাজের কথায়, এটি নন-ফিকশন শো হলেও প্রতিটি পর্বকে বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে। রান্নার পাশাপাশি থাকছে মজা, প্রেম, ঝগড়া ও কান্নার মতো নানা উপাদান।

সব মিলিয়ে, ‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’ যে শুধু রান্নার প্রতিযোগিতা নয়, বরং তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত স্মৃতি ও আবেগও, তা স্পষ্ট। আর মায়ের হাতের রান্নার প্রসঙ্গে ইমন, কাঞ্চন ও অন্বেষার স্মৃতিচারণ সেই আবেগকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এল।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক