নেপালে ফের হড়পা বান! বুধি গণ্ডকী নদীর জলরোষে ভাসল বাড়িঘর-সেতু, আতঙ্কে বাসিন্দারা

প্রকৃতির রুদ্ররোষে ফের বিপর্যস্ত নেপাল। রবিবার সকালে বুধি গণ্ডকী নদীতে হড়পা বান নামতেই মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল পরিস্থিতি। আচমকা নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় প্লাবিত হল নদী সংলগ্ন এলাকা। প্রবল স্রোতে ভেসে গেল একাধিক বাড়িঘর ও সেতু। প্রাণ বাঁচাতে তড়িঘড়ি উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘিরে ছড়িয়েছে আতঙ্ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে নেপালের গোরখা অঞ্চলের পাহাড় থেকে নেমে আসে হড়পা বান। এরপর বুধি গণ্ডকী নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়তে শুরু করে। পাথর ও কাদামিশ্রিত প্রবল জলস্রোত নদীর আশপাশের এলাকায় আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে জলের তোড়ে ভেসে যায় একাধিক বাড়িঘর ও সেতু।

ঘটনার একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, কীভাবে প্রবল গতিতে ধেয়ে আসা জলরাশি নিমেষের মধ্যে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি। আচমকা জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। পরিস্থিতি বুঝে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উঁচু এলাকায় চলে যান। তবে ঠিক কী কারণে এই হড়পা বান নামল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কোনও নিশ্চিত খবরও পাওয়া যায়নি। ফলে পাহাড়ি নদীতে আচমকা জলস্তর বৃদ্ধির কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

বিপর্যয় মোকাবিলায় সতর্কবার্তা জারি

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রবিবার সকালে নেপালের জাতীয় বিপর্যয় ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তরফে সতর্কবার্তা জারি করা হয়। বুধি গণ্ডকী নদীতে হড়পা বান আসার বিষয়ে আগাম সতর্ক করে দেওয়া হয় স্থানীয়দের। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্লাবিত এলাকায় না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নিরাপত্তার স্বার্থে নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের উঁচু ও নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বন্যার বেশ কিছু ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। তবে নতুন করে এই বিপর্যয়ে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কতজন আহত বা নিখোঁজ রয়েছেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

আগের বিপর্যয়ের ক্ষত এখনও শুকোয়নি, তার মধ্যেই ফের বান

উল্লেখ্য, গত ২৬ অগস্ট ভয়াবহ হড়পা বানে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা। ত্রিশূলী ও ভোটকোসি নদীর জলরোষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভেঙে পড়ে বহু বাড়িঘর, অফিস, সেতু এবং দোকানপাট। সেই বিপর্যয়ে বহু মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি নিখোঁজ হন অসংখ্য মানুষ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১,৪৫৫ এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৫,২৮৫। পাশাপাশি, তিব্বত অঞ্চলেও শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। নেপালে নিখোঁজ ভারতীয়ের সংখ্যা ১৮৯। এ ছাড়া ৩৬টি দেশের ৬০৬ জন বিদেশি পর্যটকেরও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগের বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি ও নিখোঁজদের সন্ধানের মধ্যেই ফের হড়পা বানের কবলে নেপাল। নতুন করে এই দুর্যোগে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক