বিগ বস বাংলার ঘরে প্রতিদিনই বদলাচ্ছে খেলার সমীকরণ। কখনও প্রতিযোগীদের মধ্যে বচসা, কখনও বন্ধুত্বের নতুন সমীকরণ, আবার কখনও কঠিন টাস্ক ঘিরে উত্তেজনা। বৃহস্পতিবারের পর্বেও তার ব্যতিক্রম হল না। লাক্সারি বাজেট টাস্ককে কেন্দ্র করে বিগ বসের বাড়িতে তৈরি হল টানটান উত্তেজনা। চোখ বাঁধা অবস্থায় গোলকধাঁধা পার করার চ্যালেঞ্জে একদিকে যেমন নজর কাড়লেন সৃজলা, অন্যদিকে তেমনই মাঝপথে বাতিল হয়ে গেলেন রাজবীর। কিন্তু কী এমন হয়েছিল এই টাস্কে?
এ সপ্তাহের লাক্সারি বাজেট জিততে প্রতিযোগীদের সামনে রাখা হয়েছিল কঠিন একটি চ্যালেঞ্জ। বিগ বসের নির্দেশ অনুযায়ী, দুটি দলে ভাগ হয়ে যান বাড়ির সদস্যরা। টাস্কে অংশগ্রহণকারীদের চোখ বেঁধে গোলকধাঁধার মধ্যে দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। পথের বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখা চারটি ডায়মন্ড খুঁজে সংগ্রহ করার পর একইভাবে বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে তাঁদের। তবে কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। চোখ বাঁধা থাকায় প্রতিযোগীরা নিজেরা পথ দেখতে পাচ্ছিলেন না। বাইরে থেকে সতীর্থদের দেওয়া নির্দেশ শুনেই এগোতে হচ্ছিল তাঁদের। তার উপর বিপক্ষ দলের সদস্যরা ক্রমাগত চিৎকার করে ভুল নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। শুধু তাই নয়, প্রতিযোগীদের বিভ্রান্ত করতে তাঁদের গায়ে ছোড়া হচ্ছিল রং ও ছাই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল, গোলকধাঁধার মধ্যে হামাগুড়ি দেওয়ার সময় কেউ উঠে দাঁড়ালেই তাঁকে সরাসরি টাস্ক থেকে বাতিল করা হবে। ফলে একদিকে ডায়মন্ড খুঁজে বের করার চাপ, অন্যদিকে নিয়ম মেনে চলার চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে আরও কঠিন।
এই কঠিন টাস্কে অংশ নেন সৃজলা, রাজবীর ও মনামী। সৃজলার চোখ বাঁধা অবস্থায় তাঁকে বাইরে থেকে পথ দেখানোর দায়িত্বে ছিলেন দুর্নিবার। অন্যদিকে, রাজবীরকে সাহায্য করেন নন্দিনী এবং মনামীকে নির্দেশ দেন সোনামণি। বিপক্ষ দলের সদস্য জীতু, ভরত কল ও তনুশ্রীরা প্রতিযোগীদের বিভ্রান্ত করার দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের চিৎকার, ভুল নির্দেশ এবং রং-ছাই ছোড়ার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাওয়াই ছিল এই টাস্কের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
টাস্ক চলাকালীন প্রবল চাপ ও বিভ্রান্তির মধ্যে শেষ পর্যন্ত ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন রাজবীর। নিয়ম মেনে চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ণ করতে না পারায় মাঝপথেই তাঁকে বাতিল হতে হয়। ফলে টাস্কে জয় পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি। অন্যদিকে, মনামী টাস্ক সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হন। তবে সবার নজর কেড়ে নেন সৃজলা। প্রতিকূল পরিস্থিতি, বিপক্ষ দলের বাধা এবং ক্রমাগত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা সত্ত্বেও নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকেন তিনি। নিয়ম না ভেঙে নিখুঁতভাবে টাস্ক শেষ করে জয় ছিনিয়ে নেন সৃজলা।
সঞ্চালক নিরঞ্জন যখন তাঁর জয়ের কথা ঘোষণা করেন, তখন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে সৃজলার দল। রাজবীরের ব্যর্থতার বিপরীতে সৃজলার এই সাফল্য পর্বের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
এই টাস্কে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল প্রতিযোগীদের বিভ্রান্ত করার দায়িত্ব। সেই কাজ দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করায় জীতু, ভরত কল ও তনুশ্রীদের দলও জয়ী হয়। অর্থাৎ, একদিকে গোলকধাঁধার মধ্যে প্রতিযোগীদের পারফরম্যান্স, অন্যদিকে বিপক্ষ দলের কৌশল—দুই ক্ষেত্রেই সাফল্যের স্বীকৃতি মেলে। তবে আসল চমক আসে বিগ বসের তরফে। প্রতিযোগীদের লড়াই, একাগ্রতা ও পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হয়ে তিনি এ সপ্তাহের সম্পূর্ণ লাক্সারি বাজেট পুরস্কার হিসেবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর এই ঘোষণায় বাড়ির পরিবেশ বদলে যায়। টাস্কের ক্লান্তি ও প্রতিযোগিতার উত্তেজনা ভুলে আনন্দে মেতে ওঠেন সদস্যরা।

সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের পর্বে সৃজলার জয় যেমন তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে, তেমনই রাজবীরের বাতিল হওয়া নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী পর্বে প্রতিযোগীদের মধ্যে এই টাস্কের প্রভাব কতটা পড়ে, এখন সেটাই দেখার।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.