ভাইকে হারানোর এক মাস কেটে গেলেও শোকের ভার এখনও একই রকম গভীর। পরিবারের প্রতিটি দিন যেন নতুন করে মানিয়ে নেওয়ার লড়াই। এমনই কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেছেন প্রয়াত অভিনেতার দাদা অনির্বাণ।
তিনি জানিয়েছেন, মাত্র এক মাস আগেও এমন পরিস্থিতির কথা ভাবেননি। হঠাৎ করে ভাইকে হারিয়ে এখন পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়েছে তাঁর কাঁধে। বিশেষ করে মাকে সামলানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মাঝরাতে এখনও ছেলের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন তিনি।
অনির্বাণ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বাইরে থাকতেন। ফলে এতদিন মা ও ভাই একসঙ্গেই সংসার সামলাতেন। ভাই-ই মায়ের সমস্ত খুঁটিনাটি দেখাশোনা করতেন। সেই জায়গাটা এখন ফাঁকা হয়ে গেছে। এই শূন্যতা পূরণ করা যে সহজ নয়, তা স্পষ্ট তাঁর কথাতেই।
শৈশবের স্মৃতিও বারবার ফিরে আসছে। ছোট ভাইয়ের জন্মের জন্য মায়ের কাছে আবদার করা, একসঙ্গে খেলার স্বপ্ন—সবই এখন স্মৃতির অ্যালবামে বন্দি। ভাইয়ের ছোটবেলার মিষ্টি অভ্যাসগুলোও যেন আজ আরও বেশি করে মনে পড়ছে।
ঘটনার আগে কিছুদিন একসঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন দুই ভাই। একসঙ্গে খাওয়া, খেলা দেখা—সবই এখন স্মৃতির অংশ। এমনকি ভবিষ্যৎ নিয়েও পরিকল্পনা করেছিলেন। বিদেশে নিজের বাড়িতে মা ও ভাইকে নিয়ে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন অনির্বাণ। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল।

পেশাগত দিক থেকেও ভাইয়ের অনেক পরিকল্পনা ছিল। নতুন নতুন কনটেন্ট তৈরি, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ—সবই থেমে গেল হঠাৎ করেই। সেই অসম্পূর্ণ কাজগুলো এখন কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারের কাছে।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হল ভাইয়ের পরিবার—ছেলে সহজ ও প্রিয়াঙ্কার পাশে থাকা। অনির্বাণ জানিয়েছেন, মানসিকভাবে তাঁদের শক্ত করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন তিনি। ভাইপোর দৃঢ়তা তাঁকে অনুপ্রাণিত করছে।

মায়ের জন্য পরিবেশ পরিবর্তনের কথাও ভাবছেন তিনি। যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাসপোর্টের কাজ চলছে, সব ঠিকঠাক হলেই বিদেশে নিয়ে যাবেন তাঁকে।
একদিকে ব্যক্তিগত শোক, অন্যদিকে জীবনের বাস্তব দায়—এই দুইয়ের মাঝেই এখন দিন কাটছে পরিবারের। অনির্বাণের কথায় স্পষ্ট, এই ক্ষতি কোনওদিন পূরণ হওয়ার নয়, তবে দায়িত্ব ও ভালোবাসাই এখন তাঁদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.