জ্যোতিষশাস্ত্র ও সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, জীবনে রাহু-কেতু বা কুনজরের মতো অশুভ শক্তির প্রভাব পড়লে তার ফল মারাত্মক হতে পারে। আচমকা বাধা, মানসিক অশান্তি, কর্মক্ষেত্রে সমস্যা কিংবা অকারণ ভয়—এই সবই নেতিবাচক শক্তির লক্ষণ বলে মনে করা হয়। এই অশুভ প্রভাব কাটাতে শাস্ত্রে নানা টোটকা ও উপায়ের উল্লেখ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল স্নানের জলে বিশেষ কিছু উপাদান মিশিয়ে স্নান করা।
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে সকলের পক্ষে নিয়মিত পূজা-পাঠ বা জটিল আচার পালন করা সম্ভব নয়। সেই কারণে সহজ ও দৈনন্দিন জীবনে পালনযোগ্য উপায়গুলির গুরুত্ব অনেক বেশি। নুন, হলুদ বা গঙ্গাজল মিশিয়ে স্নানের প্রচলন বহুদিনের হলেও, অনেকেই জানেন না কর্পূরের বিশেষ ক্ষমতার কথা।
শাস্ত্র মতে, কর্পূর অত্যন্ত পবিত্র এবং শক্তিশালী এক উপাদান, যা নেতিবাচক শক্তি দূর করতে সাহায্য করে। সাধারণত ঘরে কর্পূর জ্বালানো হলেও, স্নানের জলে এক চিমটে কর্পূর মিশিয়ে স্নান করলেও একই রকম সুফল পাওয়া যেতে পারে বলে বিশ্বাস।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্পূর মিশ্রিত জলে স্নান করলে প্রথমত কুনজর বা নজরদোষ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কারও কুদৃষ্টি বা ঈর্ষার প্রভাব থাকলে তা ধীরে ধীরে কমতে পারে। দ্বিতীয়ত, এই পদ্ধতিতে জীবনে শুভ শক্তির সঞ্চার ঘটে। মনের ভিতরে জমে থাকা নেগেটিভ অনুভূতি দূর হয়ে মন শান্ত ও স্থির হতে পারে।
এছাড়াও, শাস্ত্রে বলা হয়েছে পূর্বপুরুষের ক্ষোভ বা পিতৃদোষ থেকেও মুক্তির উপায় হতে পারে কর্পূর। যদি কারও কোষ্ঠীতে পিতৃদোষ থাকে বা পূর্বপুরুষদের অসন্তোষের কারণে জীবনে বাধা আসে বলে মনে করা হয়, তা হলে নিয়মিত স্নানের জলে কর্পূর ব্যবহার উপকারী হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, রাহু ও কেতুর অশুভ প্রভাব। কোষ্ঠীতে রাহু-কেতু দুর্বল বা অশুভ স্থানে অবস্থান করলে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষেত্রে কর্পূর মেশানো জলে স্নান করলে ধীরে ধীরে তাদের কুপ্রভাব কমতে পারে বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস করা হয়।
নতুন বছরের শুরুতে জীবনের বাকি মাসগুলো শুভ কাটাতে চাইলে এই সহজ শাস্ত্রীয় উপায়টি মেনে চলতেই পারেন। যদিও এটি বিশ্বাসনির্ভর পদ্ধতি, তবু বহু মানুষ এর মাধ্যমে মানসিক শান্তি ও ইতিবাচক পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন বলে দাবি করেন।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.