একসময় বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন মাধুরী দীক্ষিত। তাঁর অভিনয় ও নাচে মুগ্ধ ছিল অগণিত অনুরাগী। কিন্তু কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকতেই চিকিৎসক শ্রীরাম নেনেকে বিয়ে করে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। মাধুরীর বিয়ের খবরে মন খারাপ হয়েছিল বহু অনুরাগীর। দেখতে দেখতে সেই দাম্পত্যের ২৭ বছর পূর্ণ হয়েছে। আজও কী ভাবে অটুট রয়েছে তাঁদের সম্পর্কের রসায়ন? সম্প্রতি সেই রহস্যই ফাঁস করলেন শ্রীরাম নেনে।
১৯৯৯ সালের ১৫ অক্টোবর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন মাধুরী ও শ্রীরাম। বিয়ের পর বেশ কয়েক বছর আমেরিকায় সংসার করেছেন অভিনেত্রী। তবে অভিনয়ের জগৎ থেকে পাকাপাকি ভাবে দূরে থাকতে পারেননি তিনি। ২০০৭ সালে ‘আজা নাচলে’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন করেন মাধুরী। পরবর্তী সময়ে ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’ ছবিতে রণবীর কপূরের সঙ্গে ‘ঘাগরা’ গানে তাঁর নাচ দর্শকদের বিশেষ নজর কেড়েছিল। ২০১১ সালে পাকাপাকি ভাবে মুম্বইয়ে ফিরে আসেন অভিনেত্রী। তার পরেও একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।
অন্য দিকে, সম্প্রতি লেখক হিসাবেও নতুন ইনিংস শুরু করেছেন শ্রীরাম নেনে। প্রকাশিত হয়েছে তাঁর বই ‘২১ ডেজ় টু গুড হেল্থ’। বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে নিজেদের দাম্পত্যজীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। প্রায় তিন দশকের সম্পর্কেও কী ভাবে দু’জনের মধ্যে বোঝাপড়া ও ভালোবাসা অটুট রয়েছে, তা জানান চিকিৎসক।
শ্রীরামের মতে, তাঁদের চিন্তাভাবনা, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনের ধরনে অনেক মিল রয়েছে। তিনি মনে করেন, সুস্থ থাকা এবং নিজের কর্মক্ষমতা বজায় রাখার জন্য নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, নিজের শরীর ও মনের যত্ন নেওয়া উচিত বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে তাঁদের দীর্ঘ দাম্পত্যের সবচেয়ে বড় রহস্য পারস্পরিক সম্মান। শ্রীরাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের সংসারে পুরুষের একচ্ছত্র কর্তৃত্বের কোনও জায়গা নেই। বরং দু’জনেই সমান অংশীদার হিসাবে সংসারের দায়িত্ব পালন করেন।
শ্রীরামের কথায়, তাঁরা একে অপরের জীবনসঙ্গী। তাঁদের সম্পর্কের ভিত্তি কোনও পুরনো ধ্যানধারণা নয়, বরং সমান অধিকার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা। দু’জনেরই নিজস্ব পেশাগত জীবন রয়েছে। তাই একে অপরের কাজে অযথা হস্তক্ষেপ না করে ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করেন তাঁরা। পাশাপাশি সংসারের দায়িত্বও ভাগ করে নেন।
মাধুরী ও শ্রীরামের ফিটনেসের রহস্য নিয়েও কথা বলেছেন চিকিৎসক। তাঁর দাবি, এর পিছনে কোনও বিশেষ গোপন কৌশল নেই। নিয়মিত শরীরচর্চা এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনই তাঁদের সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি। শ্রীরাম নিজে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকেন। অন্য দিকে, নাচ মাধুরীর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নিজেদের পছন্দমতো শরীরচর্চার অভ্যাস বজায় রেখেছেন দু’জনেই।

দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্যে সময়ের সঙ্গে বদলেছে জীবন, বদলেছে কাজের ব্যস্ততা। কিন্তু একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ এবং কঠিন সময়ে পাশে থাকার মানসিকতা বদলায়নি। শ্রীরামের কথায়, সম্পর্ককে সুন্দর রাখতে দু’জনের সমান অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এই পারস্পরিক বোঝাপড়াই মাধুরী ও শ্রীরামের দীর্ঘ দাম্পত্যের অন্যতম শক্ত ভিত।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.