বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কপূর ও শিখর পাহাড়িয়ার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চর্চা চলছে। কখনও পারিবারিক অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিতি, কখনও আবার সমাজমাধ্যমে তাঁদের পারস্পরিক আদানপ্রদান— সব মিলিয়ে তাঁদের প্রেমের গুঞ্জন বারবার শিরোনামে উঠে এসেছে। তবে এত দিন পর্যন্ত নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি দু’জনের কেউই। এ বার প্রেমের জল্পনায় কার্যত সিলমোহর দিলেন জাহ্নবী। শুধু তা-ই নয়, বিয়ের পরিকল্পনা নিয়েও মুখ খুললেন অভিনেত্রী।
সম্প্রতি ‘কফি উইথ কর্ণ ৯’-এর মঞ্চে উপস্থিত হয়ে শিখরের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন জাহ্নবী। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক কর্ণ জোহর সরাসরি অভিনেত্রীকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি শিখরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে রয়েছেন? উত্তরে সম্মতি জানান জাহ্নবী। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এত রাখঢাক করার প্রবণতা নিয়েও নিজের মতামত প্রকাশ করেন তিনি।
জাহ্নবীর কথায়, সম্পর্ক নিয়ে অযথা লুকোচুরি করার কোনও প্রয়োজন নেই বলেই মনে করেন তিনি। যদিও ব্যক্তিগত জীবনে অন্যের নজর লাগুক, তা কখনওই চান না অভিনেত্রী। তবে সব কিছু এমন ভাবে গোপন রাখার চেষ্টা করা, যাতে কেউ কিছুই জানতে না পারেন, সেটাও তাঁর কাছে বাড়াবাড়ি বলে মনে হয়। সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত লুকোচুরি করাকে একঘেয়েও মনে করেন তিনি। প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করার পর স্বাভাবিক ভাবেই উঠে আসে বিয়ের প্রসঙ্গ। কবে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন জাহ্নবী? এই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী দু’-তিন বছরের মধ্যে বিয়ে করার কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই। অর্থাৎ, জাহ্নবী ও শিখরের বিয়ে নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে যে জল্পনা চলছে, আপাতত তেমন কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানাননি অভিনেত্রী।
বর্তমানে নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে তাঁরা দু’জনেই ভাল জায়গায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাহ্নবী। চারপাশে একের পর এক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার খবর সামনে এলেও নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে তাঁরা যথেষ্ট স্বচ্ছন্দ বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিনেত্রী। জাহ্নবীর জীবনে শিখরের গুরুত্ব যে কতটা, তা বোঝা যায় অভিনেত্রীর অতীতের অভিজ্ঞতার কথা থেকে। মা শ্রীদেবীর মৃত্যুর পর কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। সেই সময় শিখর যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তা আজও অভিনেত্রীর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
জাহ্নবী জানান, শ্রীদেবীর মৃত্যুর সময় তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। শিখর তখন লন্ডনে পড়াশোনা করছিলেন। কিন্তু অভিনেত্রীর কঠিন পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে সেমেস্টারের মাঝপথেই পড়াশোনা ছেড়ে মুম্বইয়ে ফিরে আসেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, জাহ্নবীর সুবিধার কথা ভেবে নিজের বাড়িতে না থেকে জুহুতে এক বন্ধুর সঙ্গে থাকতেন শিখর। শিখরের এই উদ্যোগ জাহ্নবীর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। সম্পর্কের সমীকরণ যা-ই হোক না কেন, জীবনের কঠিন সময়ে যেভাবে শিখর তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তা তাঁদের পারস্পরিক বোঝাপড়ার পরিচয় দেয়।
জাহ্নবী ও শিখরের পরিচয় অবশ্য নতুন নয়। কিশোর বয়স থেকেই একে অপরকে চেনেন তাঁরা। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে জাহ্নবী জানিয়েছিলেন, তাঁর বয়স যখন ১৫ কিংবা ১৬ বছর, তখন থেকেই শিখর তাঁর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন। একে অপরের ভরসার জায়গা হয়ে ওঠার কথাও জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠান, মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়া এবং একাধিক সামাজিক অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। যদিও সম্পর্কের বিষয়ে এত দিন প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি তাঁরা, তবুও তাঁদের একসঙ্গে উপস্থিতি নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহল ছিল তুঙ্গে।
শিখরের ডাকনাম লেখা হার পরা থেকে শুরু করে তাঁর নাম ও ছবি দিয়ে তৈরি বিশেষ টি-শার্ট পরা— বিভিন্ন সময়ে শিখরের প্রতি নিজের ভালবাসার ইঙ্গিত দিয়েছেন জাহ্নবী। অভিনেত্রীর বাবা বনি কপূরও শিখরের প্রতি নিজের ভাল লাগার কথা প্রকাশ করেছেন। এর আগে জাহ্নবী ও শিখরের বিয়ে নিয়ে নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছিল। শোনা যাচ্ছিল, ২০২৬ সালেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারেন তাঁরা। তবে গত মে মাসে সেই খবর অস্বীকার করেন বনি কপূর। এ বার জাহ্নবী নিজেই বিয়ে নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন।

অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী দু’-তিন বছরে বিয়ের কোনও পরিকল্পনা নেই তাঁর। ফলে আপাতত বিয়ের জল্পনায় ইতি টানতে চাইছেন জাহ্নবী। প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললেও ব্যক্তিগত জীবনের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য যে এখনই তাড়াহুড়ো করতে চাইছেন না, তাঁর কথাতেই তা স্পষ্ট।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.