গায়ক ও অভিনেতা প্রশান্ত তামাংয়ের শেষ বিদায় দার্জিলিংয়ের আকাশে ছড়িয়ে দিল গভীর নীরব বেদনা। পাহাড়ি শহরের চিরচেনা ঠান্ডা বাতাস যেন সেদিন আরও ভারী হয়ে উঠেছিল শোকের নিঃশ্বাসে। বাগডোগরা বিমানবন্দর হয়ে তাঁর মরদেহ যখন দার্জিলিংয়ে পৌঁছায়, তখন থেকেই শহরজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।
চৌরাস্তার দিকে ধীরে ধীরে জমতে থাকে মানুষের ঢল। শত শত ভক্ত, স্থানীয় বাসিন্দা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা নীরবে দাঁড়িয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। কারও হাতে ফুল, কারও হাতে প্রশান্তের ছবি—সবাই যেন নিজের বুকের ভেতর সযত্নে ধরে রেখেছিলেন তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলো। এই মানুষের কাছে প্রশান্ত শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি ছিলেন পাহাড়ের সন্তান—যিনি জাতীয় মঞ্চে দাঁড়িয়ে দার্জিলিংয়ের স্বপ্নকে ডানা দিয়েছিলেন।
ভিড়ের মাঝেও সবচেয়ে করুণ দৃশ্যটি ছিল তাঁর স্ত্রী মার্থা আলে ও ছোট্ট কন্যাকে ঘিরে। স্বামীর কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে মার্থা নিজের মন শক্ত রাখার চেষ্টা করলেও বারবার ভেঙে পড়ছিলেন। চোখের জল আর সংযমের বাঁধ মানছিল না। তবুও মায়ের স্নেহময় হাত ধরে ছোট্ট মেয়েটিকে তিনি শেষ আচারের দিকে এগিয়ে দেন। শিশুটি এতটাই ছোট যে পরিস্থিতির গভীরতা পুরোপুরি বোঝার ক্ষমতা তার নেই, তবুও মায়ের শাড়ির আঁচল আঁকড়ে ধরে তার ভীত চোখে ধরা পড়ছিল অজানা শোকের ছায়া। এই মুহূর্ত উপস্থিত সকলের চোখ ভিজিয়ে দেয়।
চৌরাস্তার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত সংযত। কোনও স্লোগান বা উন্মাদনা নয়—শুধু মাথা নুইয়ে শ্রদ্ধা, হাতজোড় করা নীরব প্রণাম এবং মাঝে মাঝে ভেসে আসা মৃদু কান্নার শব্দ। পরিবারও এই শান্ত পরিবেশেই শেষকৃত্যের আচার সম্পন্ন করে। মার্থার পাশে ছিলেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা—নিজেদের শোক সামলে তাঁকে শক্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা ছিল সবার চোখে-মুখে।
মাত্র ৪৩ বছর বয়সে প্রশান্ত তামাংয়ের প্রয়াণ দার্জিলিং-সহ সারা দেশের অসংখ্য মানুষের কাছে এক ব্যক্তিগত ক্ষতির মতো। ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ৩ জয়ের মাধ্যমে তাঁর উত্থান, তার পর সঙ্গীত ও অভিনয়ের জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা—সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন সংগ্রাম, আশা ও স্বপ্নের প্রতীক। পাহাড়ের কোলে সেদিন শুধু একজন শিল্পীর নয়, এক প্রিয় সন্তানের শেষ বিদায়ে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিল দার্জিলিং।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.