বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার নতুন করে চর্চায় উঠে এলেন অভিনেত্রী ও সাংসদ Rachana Banerjee। টলিউডে রাজনৈতিক প্রভাব এবং ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে “উলটো সুর” বলে কটাক্ষ করছেন।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের সঙ্গে যুক্ত রচনা। অভিনয়ের পাশাপাশি বর্তমানে তিনি সক্রিয় রাজনীতিরও পরিচিত মুখ। গত লোকসভা নির্বাচনে তিনি হুগলি কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তবে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে টলিউডের পুরনো এবং বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করতে গিয়ে বেশ কিছু স্পষ্ট মন্তব্য করেন তিনি।
রচনার দাবি, প্রায় পনেরো বছর আগেও বাংলা চলচ্চিত্র জগতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এতটা প্রকট ছিল না। তাঁর কথায়, সেই সময় শিল্পীরা নিজেদের মতো কাজ করতেন এবং বিভিন্ন সংগঠন মিলেমিশে ইন্ডাস্ট্রির কাজ পরিচালনা করত। স্টুডিওপাড়ার পরিবেশও অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ ছিল বলে জানান তিনি।

অভিনেত্রীর মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টলিউডে অশান্তি ও বিভাজনের আবহ তৈরি হয়েছে। শিল্পীদের একাংশ নাকি সেই পরিস্থিতিতে অস্বস্তিতেও ছিলেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেকেই খোলাখুলি মত প্রকাশ করতে পারতেন না।
রচনা আরও জানান, রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কথা বলা সহজ ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক শিল্পী হয়তো নিজের মতামত প্রকাশে সংযত থাকতেন পরিস্থিতির চাপে। এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
এছাড়াও নির্বাচনী প্রচারের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের আচরণ দেখে তাঁর মনে হয়েছিল রাজনৈতিক সমর্থনের বাস্তব চিত্র ভিন্ন হতে পারে। প্রচারে গিয়ে বহু মানুষ তাঁর সঙ্গে ছবি তুললেও সেই উচ্ছ্বাস ভোটে প্রতিফলিত হয়নি বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
রচনার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কেউ বলছেন, তিনি বাস্তব পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন। আবার সমালোচকদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতেই অভিনেত্রীর বক্তব্যের সুরও বদলে গিয়েছে। ফলে টলিউডের অন্দরের রাজনীতি এবং শিল্পীদের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক আরও একবার সামনে চলে এসেছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.